খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২৯ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে নতুন করে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর)।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ বাংলাদেশ সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রধান সংস্থা রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন কমিশনের প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আনাদোলুকে জানান, ইউএনএইচসিআর গত সপ্তাহে এক চিঠির মাধ্যমে এই অনুরোধ জানায়। চিঠিতে বলা হয়, রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
মিজানুর রহমান আরও জানান, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশে অস্থায়ী তাঁবু গেড়ে বসবাস শুরু করেছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় স্কুল, মসজিদ ও অন্যান্য অবকাঠামোয়। তিনি বলেন, ‘তাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।’
তথ্যসূত্র হিসেবে বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকার বরাতে আনাদোলু জানায়, নতুন আসা রোহিঙ্গারা প্রায় ২৯ হাজার ৬০৭টি পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে শুধু গত সপ্তাহেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ১ হাজার ৪৪৮টি পরিবার। অধিকাংশই রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।
তবে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ইউএনএইচসিআরের অনুরোধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো সাড়া দিইনি। কারণ ক্রমাগত রোহিঙ্গাদের ঢল বাড়তে থাকলে দেশে তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে।’
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবা চলছে।
সম্প্রতি রাখাইনে জান্তাবাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। রাজধানী সিতওয়ে ছাড়া রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা বর্তমানে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে নতুন করে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
খবরওয়ালা/আরডি