খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৭ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুর। গত এক বছরে এসব কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১১ হাজার মানুষ। একই সময়ে আক্রান্তদের দিতে হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন।
সরকারি হিসাবে, শুধু চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই জেলা সদর হাসপাতালে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। ফলে ভ্যাকসিন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কুকুর বা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। প্রত্যেককে তিন ডোজ করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। সে হিসেবে এক বছরে মোট ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় কয়েক হাজার কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে টিকা সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসাবাড়ি, স্কুল ও রাস্তায় চলাচলের সময় হঠাৎ কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। এতে ভয়ে অনেক শিশু স্কুলে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ রোকুনুজ্জামান বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে ৮০০ আক্রান্ত মানুষকে ২,৪০০ ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে ১০ হাজার মানুষকে প্রায় ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। নতুন নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সবাইকে সচেতন থেকে চলাচল করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
খবরওয়ালা/এন