খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে ২০২৫
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেত্রী লাকী আক্তারসহ প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের নামে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
রোববার (৪ মে) এক বিবৃতিতে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং কৃষক সমিতির সংগঠক লাকী আক্তারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী দেশের গণতান্ত্রিক অর্জনকে ধ্বংস করতে নানা অপকৌশল চালাচ্ছে। এই গোষ্ঠী প্রগতিশীল রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের টার্গেট করে হয়রানিমূলক মামলা দিচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেন, ঘটনার সময় লাকী আক্তার রাজপথে ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। অথচ ওই সময়কে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদসহ আরও অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন সিপিবি নেতারা।
বিবৃতিতে সিপিবি দাবি করে, লাকী আক্তার বা মামলায় অভিযুক্ত অন্য কারোই এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রশ্ন ওঠে না। নেতারা অবিলম্বে এই ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই ধরনের হয়রানিমূলক মামলা আরও অনেক রাজনৈতিক কর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধেও হয়েছে, যাঁরা প্রকৃত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। এসব মামলা প্রকৃত অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান সিপিবি নেতারা। একইসঙ্গে তাঁরা একাত্তরের গণহত্যার বিচার ও গণআদালতের চেতনা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। সিপিবি নেতারা বলেন, গণআদালত, গণজাগরণ মঞ্চ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না।
খবরওয়ালা/আশ