খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিজের ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শরীয়তপুরের এক নারী। অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নাম। তবে প্রশাসনের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শ্রেণি পরিবর্তন না করেই অবৈধভাবে নির্মাণকাজ শুরু করায় তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে শরীয়তপুরের সার্কিট হাউজ এলাকার বালুর মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার।
তিনি জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৮০ নম্বর ধানুকা মৌজার ১২১৬ নম্বর খতিয়ানের ১০০৭ নম্বর দাগে ২৩ শতাংশ জমির বৈধ মালিক তিনি। ২০২১ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী নিরঞ্জন পাল থেকে ক্রয়সূত্রে জমিটি কিনেছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে বালু ফেলে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে গত শনিবার (২৬ জুলাই) সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও ইলোরা ইয়াসমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাফিজ এলাহী। অভিযানে খুঁটি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি তাকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়। পরে পৌর কর্তৃপক্ষ তার নির্মাণসামগ্রী জিম্মায় নেয়।
নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আমার কেনা সম্পত্তিতে ডিসি আমাকে উঠতে দেয় না। আমি কাজ করতে গেলে ডিসি বাধা দেন। পারমিশনের জন্য ডিসির কাছে গেলে তিনি দেন না, পৌরসভায় গেলেও তারা কোনো ফরম দেয় না। ইউএনও আর এসিল্যান্ড এসে আমার জমির খুঁটি খুলে নিয়ে গেছে। তারা বলেছে ডিসির নির্দেশে করছে। আমি গরিব বলে ডিসি আমার সঙ্গে জুলুম করছেন। আমি এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। সরকার চাইলে অধিগ্রহণ করুক, না হলে আমাকে আমার জমিতে কাজ করতে দিতে হবে।’
ভুক্তভোগীর স্বামী মকবুল হোসেন লিটন বলেন, ‘জমিটা আমাদের কেনা সম্পত্তি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা খাজনা দিয়েছি। আমি হার্টের রোগী। এক বছর ধরে ডিসি ও এডিসির কাছে ঘুরছি, তারা আমার কথা শোনে না। আমাদের দিকটা কেউ দেখে না। এখন আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার ইউএনও ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, ‘জমিটির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়াই সেখানে স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। কাগজপত্রে মালিকানা নিয়ে কিছু ত্রুটি রয়েছে। পূর্ববর্তী ডিসি আদালতের মাধ্যমে মালিকানা ঠিক করার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। এছাড়াও জমিটির মালিকানা দাবি করছেন আরও একজন। তাই সেখানে নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘উচ্ছেদের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে জায়গাটি নিয়ে একাধিক পক্ষ দাবি করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত জানাবো।’
ভুক্তভোগীরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই