খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বসেছে গরুর হাট। গতকাল মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ মিনার চত্বরে দেখা যায়, এক পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ গল্প করছেন, কেউ কেউ জুতা পায়ে মিনারের বেদিতে উঠেছেন, আবার কেউ সেখানে পান-সিগারেট, বাদাম বিক্রি করছেন।
প্রাঙ্গণের বিশাল জায়গা দখল করে পশুর হাট বসানোর ফলে শহীদ মিনারের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বিষয়টিকে শহীদদের প্রতি চরম অমর্যাদা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠক ও পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, “বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি, বেদিতে পান-সিগারেট ও বাদামের দোকান বসেছে। একাধিক ব্যক্তি জুতা পরে মিনারে উঠে হাঁটাহাঁটি করছেন। আমি জিজ্ঞেস করলে একজন স্বীকার করলেন, জায়গা না থাকায় শহীদ মিনারে উঠেছেন।”
একজন ক্রেতা, ছাগল কিনে শহীদ মিনারের ওপর ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শফিকুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টি হচ্ছে, মাঠে কাদা, গরু-ছাগলের ভিড়—ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গা নেই। তাই সবার দেখাদেখি শহীদ মিনারে উঠেছি। এটা অবশ্যই আমাদের ঠিক হয়নি।”
একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গরু বিক্রেতা আলম শিকদার বলেন, “শহীদ মিনারে স্যান্ডেল পরে ওঠা নতুন কিছু না। আগেও এমন দেখেছি। আজ হাট বসেছে বলেই সংখ্যাটা বেশি মনে হচ্ছে।”
খেলাঘর বরগুনা শাখার চারুকলা সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, “শহীদ মিনারে জুতা বা স্যান্ডেল পরে ওঠা জাতির জন্য অপমানজনক। পৌরসভার দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।”
বরগুনা পৌর হাটের ইজারাদার তাহিদুর রহমান বলেন, “একদিনের জন্য শহীদ মিনার মাঠে হাট বসানো হয়েছিল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আমরা বাধ্য হয়েছিলাম। তবে ভবিষ্যতে আর এমন করা হবে না।”
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অনিমেষ বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “একদিনের জন্য ইজারাদারকে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। শহীদ মিনারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টি জানার পর আমি হাটে মাইকিং করিয়েছি। ভবিষ্যতে নির্ধারিত মাঠ—সরকারি শিশু সদন মাঠেই হাট বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে তিনিও স্বীকার করেন, “সরকারি শিশু সদন মাঠেও কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। তাই পৌরসভার একমাত্র হাটটি কোথায় স্থায়ীভাবে বসানো হবে, তা নিয়ে আমরা কিছুটা বিপাকে আছি।”
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, শহীদ মিনারের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নকে রক্ষা করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একদিনের অব্যবস্থাপনার কারণেই শহীদদের সম্মান নিয়ে এমন বিতর্ক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড