নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: 11শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরোলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষক সংকট কাটেনি।
প্রতিবছর নতুন বিভাগ খোলা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি শিক্ষক। ফলে পাঠদান, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অসম্পূর্ণ সিলেবাস, সেশনজটসহ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রকাশনা অনুযায়ী, বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ১০ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন পূর্ণকালীন শিক্ষক থাকার কথা। সে হিসেবে এখানে অন্তত ৫৪০ জন শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ২২০ জন। এর মধ্যে অনেকেই শিক্ষাছুটিতে থাকায় কার্যত সংখ্যাটি আরও কমে যায়।
রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে নয়টি বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা পাঁচজন বা তারও কম। ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজে একজন শিক্ষকও নেই। পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে অনুমোদিত ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন ছুটিতে। দর্শন, মার্কেটিং ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র ৪ জন করে শিক্ষক আছেন। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ৫ জন, ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বিভাগে ৩ জন করে শিক্ষক আছেন। ব্যবস্থাপনা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে কার্যত দুজন শিক্ষক দিয়েই পুরো বিভাগের পাঠদান চলছে।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি বিভাগে অন্তত ১৫–১৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে আমরা অবগত। ইউজিসিকে বারবার চিঠি দিয়েছি। তারা আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো অনুমোদন মেলেনি। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়।”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এনে ক্লাস নিতে হয়। এতে সিলেবাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে দেরি হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইউসুফ বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। এতে আমরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছি।”
মার্কেটিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাতুল রহমান বলেন,“শিক্ষক সংকটে একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে পাঠদানের মান কমে যায় এবং গবেষণার কাজও ব্যাহত হয়।”
শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে সমানভাবে উদ্বিগ্ন। মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল মোমেন বলেন,“শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত অস্বাভাবিক। আমাদের বিভাগে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি ব্যাচে ২৫টি কোর্স চালাতে হচ্ছে। এতে মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে।”
ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন,“শিক্ষক সংকটে একজন শিক্ষককে ক্লাস নেওয়া থেকে শুরু করে খাতা মূল্যায়ন, গবেষণা, প্রশ্ন প্রণয়ন, প্রশাসনিক কাজ—সব করতে হচ্ছে। এতে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা ও সময়মতো ডিগ্রি অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ ইউজিসির অনুমোদন না আসায় সংকট উত্তরণের পথ এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে।
খবরওয়ালা/আশ