খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহছানুল হক মিলান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাঁর দায়িত্বকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রশ্নফাঁস সহ্য করা হবে না। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী অতীত কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, “আমার পূর্ববর্তী মেয়াদকালে আমরা জালিয়াতি এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সেই সতর্কতা এখনো অব্যাহত থাকবে।”
মন্ত্রী মিলান দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
পাঠ্যক্রমের পর্যালোচনা ও আপডেট
ডিজিটাল সাক্ষরতা ও ইংরেজি দক্ষতার উন্নয়ন
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সমন্বিত কোর্স যেমন ন্যানোপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “পুরনো শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আমরা এগোতে পারি না। বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের শিক্ষা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হতে হবে, প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা ও আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।”
মন্ত্রী যখন শিক্ষা খাতের দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন, তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। আমার মেয়াদকালে কোনো ধরনের দুর্নীতি ঘটেনি এবং তা ঘটতে দেব না। এমপিও (মাসিক বেতন আদেশ) নিবন্ধন ও প্রতিষ্ঠানিক সংযুক্তি সম্পর্কিত অনিয়মের তদন্ত করা হবে, এবং পর্যায়ক্রমে তথ্য প্রকাশ করা হবে।”
বেসরকারি শিক্ষকদের কম বেতন এবং সীমিত সুবিধার দীর্ঘদিনের সমস্যা সম্পর্কে তিনি জানান, সরকার বিষয়টি জানে এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত সময়মতো জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সহ-অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পরিষদ সদস্য ববি হজ্জাজ।
| সংস্কারের ক্ষেত্র | প্রস্তাবিত পদক্ষেপ | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| পাঠ্যক্রম | পর্যালোচনা ও হালনাগাদ | আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য |
| ডিজিটাল সাক্ষরতা | প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি | শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা বৃদ্ধি |
| ভাষা দক্ষতা | ইংরেজিতে জোর | আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন |
| ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি দক্ষতা | AI, রোবোটিক্স, ন্যানোপ্রযুক্তি শিক্ষা | চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা পূরণ |
| প্রতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ | কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা | দুর্নীতি ও অশুদ্ধতা প্রতিরোধ |
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার সততা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা ২১শ শতাব্দীর চাহিদা পূরণে দক্ষ হয়ে উঠবে।