খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতির নবীন ও প্রগতিশীল মুখ, ঢাকা-১৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ দেশের শিক্ষা খাতের হাল ধরতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। অক্সফোর্ড ফেরত এই শিক্ষাবিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও গুণগত পরিবর্তনের এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুসা বিন শমসের, যিনি বিশ্বব্যাপী ‘প্রিন্স মুসা’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক জগতের এক বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। তবে ববি হাজ্জাজ নিজেকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজ মেধা ও পরিশ্রমে এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকলেও স্বদেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং কর্পোরেট জগতের হাতছানি উপেক্ষা করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
ববি হাজ্জাজ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। একজন সুবক্তা ও আধুনিক চিন্তার অধিকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল জাতীয় পার্টির হাত ধরে, যেখানে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শন প্রচারের লক্ষ্যে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ (এনডিএম) প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন।
ববি হাজ্জাজের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ক্যারিয়ার:
| বিষয় | বিবরণ |
| শিক্ষা | উচ্চশিক্ষা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাজ্য)। |
| পেশা | শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ। |
| পূর্বতন রাজনৈতিক পদ | প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, এনডিএম; বিশেষ উপদেষ্টা, জাতীয় পার্টি। |
| বর্তমান পদ | সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৩) ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। |
| বিশেষ পরিচিতি | তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবক্তা। |
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ববি হাজ্জাজের মতো একজন বিশ্বমানের শিক্ষাবিদ ও দক্ষ ব্যবস্থাপকের বিকল্প নেই।
তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব প্রদানের প্রধান কারণসমূহ:
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: অক্সফোর্ডের শিক্ষা ও বিদেশের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।
তরুণদের সঙ্গে সংযোগ: দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ফলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।
ব্যবস্থাপনা দক্ষতা: এনডিএম-এর মতো একটি রাজনৈতিক দল গঠন ও পরিচালনার মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ।
পরিবর্তনের অঙ্গীকার: গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে কর্মমুখী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা।
ববি হাজ্জাজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা কারিকুলামের সংস্কার, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি সাহসী পদক্ষেপ নেবেন বলে ছাত্র-শিক্ষক সমাজ মনে করছে। ববি হাজ্জাজ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববাজারের উপযোগী কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা। অত্যন্ত বিনয়ী ও মার্জিত স্বভাবের এই নেতার হাত ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক নতুন যুগে পদার্পণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।