খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে, যখন সীমিত পরিসরে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। জ্বালানি সংকট, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং বৈসাবি উৎসবকালীন ছুটির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই অনলাইন-অফলাইন মিশ্র শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনলাইন ক্লাস বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রস্তুতিতে সক্ষম, তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পাইলট কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত তালিকা অনুযায়ী নিচের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে—
| প্রতিষ্ঠান | অবস্থান | কার্যক্রম |
|---|---|---|
| ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ | ঢাকা | কলেজ শাখায় অনলাইন ক্লাস |
| রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ | ঢাকা | পরীক্ষামূলক অনলাইন ক্লাস |
| রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ | ঢাকা | ধাপে ধাপে অনলাইন ক্লাস বাস্তবায়ন |
| একটি সরকারি মাদরাসা | গাজীপুর | পাইলট ভিত্তিক অনলাইন ক্লাস |
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত পর্যন্ত শুধু ভিকারুনননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ তাদের কলেজ শাখায় অনলাইন ক্লাস চালুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১২ এপ্রিল থেকে নতুন হাইব্রিড রুটিন কার্যকর হবে। এতে সপ্তাহভিত্তিক ক্লাস ভাগ করা হয়েছে অনলাইন ও অফলাইনে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী—
অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত লিংক, সময়সূচি এবং নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গ্রুপে জানিয়ে দেওয়া হবে।
অনলাইন ক্লাস চালুর কারণে প্রতিষ্ঠানটির দ্বাদশ শ্রেণির প্রথমপত্রের নির্বাচনি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরে পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল (সোমবার) পূর্বঘোষিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ মূলত একটি পরীক্ষামূলক ধাপ, যার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল ও হাইব্রিড মডেল প্রবর্তনের পথ তৈরি করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় এনে ধীরে ধীরে একটি মিশ্র শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি প্রথমে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে এবং ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে ইন্টারনেট সুবিধা, শিক্ষকের দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর।
তারা আরও বলছেন, শহরাঞ্চলে এই ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য হলেও গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় এটি কার্যকর করতে হলে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অনলাইন-অফলাইন মিশ্র ক্লাস ব্যবস্থা দেশের শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি সফল হলে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
তবে এর কার্যকারিতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং বাস্তব বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে—তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর।