খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশিষ্ট টেলিভিশন উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান সম্প্রতি বাংলাদেশের নিকট ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে শিগগির কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বরঞ্চ তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এক ধরণের অস্থিতিশীলতার প্রান্তে পৌঁছে গেছে, যেখানে বৃহৎ আন্দোলন, জনসমাবেশ এবং অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক ঘটনার স্রোত আসন্ন।
২০ ডিসেম্বর শনিবার রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় জিল্লুর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ দেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক মাসে ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠনের দাবি দিনে দিনে ক্রমশ বেড়েছে। আমি আগেই এমন পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিলাম, কিন্তু অনেকেই এখনও নির্বাচনকে নিয়েই আশাবাদী। বাস্তবে, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। আগামী দিনগুলোতে কী ঘটবে, কখন ও কেন কোটি মানুষ ঢাকায় সমবেত হবে—দুঃখে, রোষে বা উদযাপনে—আমি তা অনুমান করতে চাই না। সত্যটি হলো, আমি কোনো নির্বাচন দেখি না।”
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই মাসের আন্দোলনের অন্যতম নেতা, ইনকিলাব প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বাধীন প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি প্রাণহানি গভীর শোক এবং অপ্রতিরোধ্য যন্ত্রণার কারণ। সরকারি মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় শোকঘোষণা বা বড় ধরনের জানাজা কখনোই শোকাহত পরিবারদের বেদনা কমাতে পারে না। এর পাশাপাশি, এ ধরনের ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্নও থেকে যায়।”
জিল্লুর সাংবাদিকতা ও প্রকাশিত বক্তব্যের মাধ্যমে সত্য উন্মোচনের অঙ্গীকার নিয়েও আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, “বছর আগেই আমি যে পরিস্থিতির সতর্কতা দিয়েছিলাম, তা বর্তমানে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি তীব্রতা নিয়েছে।”
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি বিশেষভাবে আবু সাঈদকে স্মরণ করেন, যিনি সশস্ত্র হুমকির মুখেও অটল থাকেন। তিনি বলেন, “সমাজকে ভাবতে হবে, আমরা কি যথেষ্টভাবে এই ত্যাগকে সম্মান জানিয়েছি কি না।”
সংবাদটি শেষ করে জিল্লুর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণ আজ অব্যাহত। অতীতের অন্যায় স্বীকার করা এবং বর্তমানের দোষ মোকাবেলা করা অপরিহার্য। যারা আগে নীরব ছিল, তারা এখন উচ্চস্বরে কথা বলছে; অনেকে তাদের অধিকার রক্ষায় উদাসীন, অন্যত্র অভিযোগ ছুঁড়ে দিচ্ছে। এই দ্বন্দ্ব অত্যন্ত স্পষ্ট।”