খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সদৃশ পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ৯ কেজি ১৫০ গ্রাম গানপাউডারসদৃশ গুঁড়া, পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের কোথানীপাড়া গ্রামের পাশে ৪ নম্বর বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি আমবাগানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো ওই অভিযানে সন্দেহভাজন একটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন ব্যাগ ও প্যাকেটে রাখা বিস্ফোরক সদৃশ পদার্থ ও উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে চারটি পৃথক পলিথিন ব্যাগে রাখা বিভিন্ন রঙের গুঁড়া পদার্থ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২ কেজি ৭০০ গ্রাম এবং ৩ কেজি কালো রঙের গুঁড়া, প্রায় পৌনে ৩ কেজি সাদা রঙের গুঁড়া এবং ৭০০ গ্রাম ধূসর রঙের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে গানপাউডারসদৃশ বিস্ফোরক হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া একটি আলাদা ব্যাগ থেকে বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন আরও কিছু উপকরণ জব্দ করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, একই স্থানে থাকা একটি প্লাস্টিকের বাজার ব্যাগের ভেতর সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় আরও কয়েকটি সন্দেহজনক সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল ১ কেজি ২০০ গ্রাম কাচের টুকরা, ৪০০ গ্রাম লোহার পেরেক, ৩০টি জর্দার কৌটা, ১০টি লাল রঙের স্কচটেপ এবং ১৫টি গ্যাস লাইটার। এসব উপকরণ সাধারণত বোমা বা বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করছে র্যাব।
র্যাব-৫ ব্যাটালিয়নের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প থেকে সোমবার সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এসব সামগ্রী ওই এলাকায় গোপনে মজুত করেছিল। তবে কারা বা কোন গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর শিবগঞ্জ থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত সামগ্রী পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতে পারে বলেও জানানো হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিস্ফোরক উপকরণ একত্রে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনও পুরো এলাকা জুড়ে নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছে।
নিচে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| সামগ্রীর ধরন | পরিমাণ/সংখ্যা |
|---|---|
| কালো গুঁড়া পদার্থ | ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম |
| সাদা গুঁড়া পদার্থ | প্রায় ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম |
| ধূসর গুঁড়া পদার্থ | ৭০০ গ্রাম |
| কাচের টুকরা | ১ কেজি ২০০ গ্রাম |
| লোহার পেরেক | ৪০০ গ্রাম |
| জর্দার কৌটা | ৩০টি |
| স্কচটেপ | ১০টি |
| গ্যাস লাইটার | ১৫টি |
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।