খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জমজমাট ফাইনালে পেশোয়ার প্যান্থার্সের বোলিং তোপে ধসে পড়েছে হায়দরাবাদ কিংসম্যানের ব্যাটিং লাইনআপ। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ১৮ ওভারেই মাত্র ১২৯ রানে অল-আউট হয়েছে মার্নাস ল্যাবুশেনের দল। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের ফলে বড় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় হায়দরাবাদ।
ইনিংসের শুরুতে হায়দরাবাদ কিংসম্যান ইতিবাচক ঢঙে খেলা শুরু করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ওপেনার মাজ সাদাকাত ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক মেজাজে ১১ রান সংগ্রহ করেন মাত্র ৬ বলে, যার মধ্যে ছিল দর্শনীয় বাউন্ডারি। তবে ইনিংস বড় করার আগেই তাকে সাজঘরে ফিরতে হয়। দলের অধিনায়ক মার্নাস ল্যাবুশেনও থিতু হতে পারেননি; ১২ বলে ২০ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলে তিনিও দ্রুত বিদায় নেন। পাওয়ার-প্লে’র সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, টপ-অর্ডারের দ্রুত বিদায়ে তা শুরুতেই হোঁচট খায়।
দলের বাকি ব্যাটাররা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত, তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সাইয়ুম আইয়ুব। তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে তিনি দলের হাল ধরেন এবং ৪২ বলে ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেলে নিজের ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। হায়দরাবাদের পুরো ইনিংসে এটিই ছিল একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ। তবে অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গী না পাওয়ায় সাইয়ুমের এই একক প্রচেষ্টা দলকে সম্মানজনক পুঁজিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
হায়দরাবাদের মিডল অর্ডার ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। অ্যারন হার্ডি এবং নাহিদ রানার বিধ্বংসী স্পেলের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি হায়দরাবাদের মধ্যম সারির ব্যাটাররা। পেশোয়ারের বোলাররা শুরু থেকেই স্টাম্প সোজা বোলিং করে ব্যাটারদের হাত খুলে খেলার সুযোগ দেননি। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানা তার গতির ঝড় তুলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট শিকার করেন। নাহিদ তার নির্ধারিত কোটায় মাত্র ২২ রান খরচ করে ২ টি উইকেট দখল করেন, যা হায়দরাবাদের রানের গতি কমিয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
পেশোয়ার প্যান্থার্সের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যারন হার্ডি। তিনি তার বোলিং নৈপুণ্যে মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। হার্ডির মাপা লেংথ এবং ভেরিয়েশন হায়দরাবাদের ব্যাটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। এছাড়া অন্যান্য বোলারদের মধ্যে:
মোহাম্মদ বাসিত: একটি উইকেট নিয়ে ইনিংসের মাঝপথে চাপ বজায় রাখেন।
সুফিয়ান মুকিম: গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এক উইকেট শিকার করে ব্রেকথ্রু এনে দেন।
নাহিদ রানা: গতির বৈচিত্র্য ব্যবহার করে ২২ রানে ২ উইকেট নেন।
| ব্যাটার | রান | বল |
| সাইয়ুম আইয়ুব | ৫৪ | ৪২ |
| মার্নাস ল্যাবুশেন | ২০ | ১২ |
| মাজ সাদাকাত | ১১ | ০৬ |
| মোট সংগ্রহ | ১২৯ | ১৮ ওভার |
ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ১২৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা বড় নয়। তবে লাহোরের পিচ এবং পেশোয়ারের বোলিং ইউনিটের সাফল্য বিবেচনা করলে এই রান ডিফেন্ড করা হায়দরাবাদের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা হায়দরাবাদকে দেড়শ রানের আগেই থামিয়ে দিয়েছে, যা শিরোপা জয়ের দৌড়ে তাদের পিছিয়ে রাখল। এখন পেশোয়ার প্যান্থার্সের ব্যাটারদের দায়িত্ব এই ছোট লক্ষ্য তাড়া করে শিরোপা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে হায়দরাবাদকে জিততে হলে তাদের বোলারদের অতিমানবীয় কিছু করে দেখাতে হবে।
ম্যাচটি বর্তমানে দ্বিতীয় ইনিংসের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে পেশোয়ারের লক্ষ্য ১৩০ রান। বোলারদের দারুণ সাফল্যের পর এখন সব আলো থাকবে পেশোয়ারের টপ-অর্ডার ব্যাটারদের ওপর।