খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সুদীর্ঘ ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রহস্যময় স্পিনার সুনীল নারাইন। প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ২০০ উইকেট শিকারের এক বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) এই অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে এই গৌরব অর্জন করেন।
আইপিএলের চলতি আসরের ৪৫তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ৪ ওভার বোলিং করে ৩১ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন নারাইন। ইনিংসের একটি পর্যায়ে হায়দরাবাদের ব্যাটার ইশান কিশানকে আউট করার মাধ্যমে তিনি তার ২০০তম উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন। এর ফলে আইপিএলের অভিজাত ‘২০০ উইকেট ক্লাব’-এ প্রথম বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা।
আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় সুনীল নারাইন বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই তালিকার শীর্ষ তিনটি স্থান দখল করে আছেন যথাক্রমে:
| বোলারের নাম | ম্যাচের সংখ্যা | উইকেটের সংখ্যা | গড় | ইকোনমি রেট |
| যুজবেন্দ্রা চাহাল | ১৮৩ | ২২৮ | ২১.৬৮ | ৭.৮৪ |
| ভুবনেশ্বর কুমার | ১৯৯ | ২১৫ | ২৭.২৩ | ৭.৫৬ |
| সুনীল নারাইন | ১৯৭ | ২০১ | ২৫.৫৩ | ৬.৭৯ |
উল্লেখ্য যে, নারাইনের আগে কেবল ভারতের যুজবেন্দ্রা চাহাল ও ভুবনেশ্বর কুমার ২০০ উইকেটের গণ্ডি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নারাইন তৃতীয় বোলার হিসেবে এই তালিকায় যোগ দিলেও ওভারসিজ বা বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই একমাত্র এবং সবার শীর্ষে।
২০১২ সালে আইপিএল অভিষেকে পর থেকেই সুনীল নারাইন ধারাবাহিকভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলে আসছেন। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান অত্যন্ত ঈর্ষণীয়:
ইনিংস: ১৯৭ ম্যাচে ১৯৫ বার বল করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
বোলিং ইকোনমি: আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার ইকোনমি রেট মাত্র ৬.৭৯, যা দীর্ঘ ক্যারিয়ার বিবেচনায় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকরী।
বোলিং গড়: উইকেট প্রতি তিনি গড়ে ২৫.৫৩ রান খরচ করেছেন।
বিশেষ সাফল্য: আইপিএল ক্যারিয়ারে তিনি এখন পর্যন্ত মোট চারবার ইনিংসে ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন এবং একবার ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
সুনীল নারাইন আইপিএলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি—কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়েই খেলছেন। একজন বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে একই দলের হয়ে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পার করা এবং ধারাবাহিকভাবে উইকেট সংগ্রহ করা বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল। তার বোলিং অ্যাকশন এবং বৈচিত্র্যময় ডেলিভারি তাকে ব্যাটারদের কাছে সবসময়ই এক আতঙ্কের নাম হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।
বিশেষ করে পাওয়ার-প্লে এবং ডেথ ওভারে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং কেকেআর-এর অনেক জয়ের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে। ২০১২ এবং ২০১৪ সালে কলকাতার শিরোপা জয়ে তার অনবদ্য অবদান ছিল। বর্তমান সময়ে অনেক নতুন স্পিনার আসলেও নারাইন তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে আইপিএলে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করে চলেছেন।
এই ২০০ উইকেটের মাইলফলক কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আইপিএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের আধিপত্য ও পেশাদারিত্বের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল। ভুবনেশ্বর কুমার এবং যুজবেন্দ্রা চাহালের পর তৃতীয় বোলার হিসেবে এই অর্জন তাকে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সেরা বোলারদের কাতারে নিয়ে গেছে। বর্তমান ফর্ম বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তিনি উইকেট সংখ্যায় তালিকার আরও উপরে উঠে আসার সম্ভাবনা রাখছেন।