খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
জাপানের মাটিতে আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে অংশগ্রহণের যাত্রায় এক বড় ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা পেল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এপিলিয়ন গ্রুপ এই সফরের জন্য ফেডারেশনকে ১ কোটি টাকার স্পন্সরশিপ বা অনুদান প্রদান করেছে। এই অর্থায়নের ফলে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে এবং জাতীয় দলের সফর এখন সুনিশ্চিত।
জাপানের মতো উন্নত ও ব্যয়বহুল দেশে অনূর্ধ্ব-১৮ ছেলে ও মেয়েদের দল পাঠানোর জন্য ফেডারেশন প্রাথমিকভবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ (আড়াই কোটি) টাকার একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে। এপিলিয়ন গ্রুপের দেওয়া ১ কোটি টাকা এই বিশাল বাজেটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হবে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব.) এই প্রাপ্তিকে একটি বড় ‘স্বস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আজ ফেডারেশন কার্যালয়ে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি জানান যে, বাজেটের বাকি অংশ সংগ্রহের জন্য তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন ক্রীড়া অনুরাগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এই ১ কোটি টাকা দলের আবাসন, যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের একটি বড় অংশ নির্বাহে সহায়তা করবে।
এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ মে থেকে জাপানে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ শুরু হতে যাচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ২৬ মে ঢাকা ত্যাগ করবে বাংলাদেশের ছেলে ও মেয়েদের জাতীয় দল। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
ছেলেদের দল: ১ মে থেকে ছেলেদের কন্ডিশনিং ও স্কিল ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
মেয়েদের দল: ৫ মে থেকে মেয়েদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কোচিং প্যানেলের নির্দেশনায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কৌশলী খেলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাপানের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগেই সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের।
মাঠের লড়াইয়ে গতবারের ধারাবাহিকতা ও সাফল্য ধরে রাখতে ফেডারেশন কোনো বড় পরিবর্তন না এনে পুরনো কোচিং প্যানেলের ওপরই আস্থা রেখেছে।
অনূর্ধ্ব-১৮ ছেলেদের কোচ: মওদুদুর রহমান শুভ।
অনূর্ধ্ব-১৮ মেয়েদের কোচ: জাহিদ হোসেন রাজু।
সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্যমতে, এই কোচদের অধীনেই গত বছর বয়সভিত্তিক হকি দলগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আশাপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছিল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন, শক্তি এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে এই কোচদের সম্যক ধারণা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা জাপানের মাটিতে কৌশল নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছে ফেডারেশন।
অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের উভয় দলকেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে।
ছেলেদের বিভাগ: বাংলাদেশ দল গ্রুপ ‘বি’-তে স্থান পেয়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে হকির অন্যতম শক্তিশালী দেশ পাকিস্তান, মালয়েশিয়া এবং চীন। প্রতিটি ম্যাচই সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়েদের বিভাগ: গত বছর টুর্নামেন্টের অভিষেক আসরেই ব্রোঞ্জ পদক জিতে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার তাদের লড়াই করতে হবে স্বাগতিক জাপান, চীন এবং চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে। গতবারের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবার মাঠে নামবে তারা।
হকি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সম্ভাবনাময় একটি ইভেন্ট হলেও অনেক সময় পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে বড় আসরে দল পাঠানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এপিলিয়ন গ্রুপের এই সময়োপযোগী অনুদান কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফেডারেশন আশা করছে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত সহায়তায় আড়াই কোটি টাকার পূর্ণ বাজেট দ্রুতই সংগৃহীত হবে। এখন বিকেএসপির ক্যাম্পে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে জাপানের নীল টার্ফে লাল-সবুজের পতাকা সমুন্নত রাখাই মূল লক্ষ্য অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সদস্যদের। ২৬ মে রওনা দেওয়ার আগে দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে বলে ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে।