গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে একটি ডোবা থেকে আট বছর বয়সী শিশু মাঈনুলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে স্থানীয়রা ডোবায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় মাঈনুল নিজ বাড়ি থেকে গলাচিপা উপজেলা সদরের দিকে রওনা হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ভোরে গ্রামের চৌরাস্তার কাছে একটি কালভার্ট সংলগ্ন ডোবায় তার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা হতে পারে, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গলাচিপা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
নিচে ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
সময় ও তারিখ
ঘটনা
সোমবার সন্ধ্যা (৮ জুন)
মাঈনুল নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের উদ্দেশ্যে বের হয়
সোমবার রাত
শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি
মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টা (৯ জুন)
স্থানীয়রা ডোবায় মরদেহ দেখতে পান
মঙ্গলবার সকাল
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে
মঙ্গলবার দিন
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়
স্থানীয়রা বলছেন, শিশুটির এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটি গভীরভাবে ভেঙে পড়েছে। তার স্বাভাবিক জীবন ও আকস্মিক নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী মরদেহ উদ্ধারের পুরো ঘটনাই এলাকাবাসীর মনে আতঙ্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।