খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক দণ্ডিত আসামিকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় নাবালক থাকা আরও পাঁচজন আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মোট ১১ জন আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুইজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন এবং একজন আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
নিম্নে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো—
| আসামির ধরণ | নাম | রায় |
|---|---|---|
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | আবুল কালাম আজাদ | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | সাগর | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড (পলাতক) |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | সেলিম ইসলাম | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড (পলাতক) |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | মেহেদী হাসান | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | রাজু ইসলাম (পাঁচফুল) | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | সজিব হাসান | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | মফিজুল ইসলাম | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | জাহিদ হাসান | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | বোরহান আলী | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | বায়েজিদ হোসেন | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রিফাত হোসেন ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের সন্তান। আসামিদের সবাই রিফাতের পরিবারের প্রতিবেশী এবং পরিচিতজন ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর এনামুল হকের কাছে আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেই দিন বিকেলেই রিফাত নিখোঁজ হয়।
পরিবার সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিন দিন পর পাশের গ্রামের একটি সেতুর নিচ থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। মামলার শুরুতে ১১ জনকে আসামি করা হলেও একজন আসামি বিচার চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন।
বিচার শেষে আদালত প্রাপ্তবয়স্ক পাঁচ আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সাজার অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
রায় ঘোষণার পর নিহত রিফাতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানায়। আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং রায় কার্যকরের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রায়কে স্থানীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করেছে।