খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
সীমান্তের ওপারে ভারতের নদীয়া জেলায় মারা যান লোজিনা বেগম (৮০)। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর দুই মেয়ে—কিন্তু পথে ছিল আন্তর্জাতিক সীমান্তের কঠোর নিয়ম। পাসপোর্ট কিংবা ভিসা ছাড়া সীমান্ত পেরোনো অসম্ভব।
তবে সেই বাধা দূর হয় মানবিকতার কাছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ জুন) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের মরদেহের কাছে পৌঁছাতে পারেন বরকতি বেগম (৪৫) ও কুলসুম বেগম (৪০)।
ঘটনাটি ঘটে আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত, সীমান্তের প্রধান খুঁটি ৯৬/৮–এস এর কাছে। বাংলাদেশ অংশে দায়িত্বে থাকা জগন্নাথপুর সীমান্তচৌকি এবং ভারতের নদীয়া জেলার গোংরা বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোংরা গ্রামের বাসিন্দা লোজিনা বেগম শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোমবার (২ মে) মধ্যরাতে মারা যান। জন্মসূত্রে তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তাঁর দুই মেয়ে বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর গ্রামে বিবাহসূত্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দুই মেয়ে বিজিবির জগন্নাথপুর সীমান্তচৌকির কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মরদেহ একবার দেখার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ জানান। এরপর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয় করে সীমান্তের শূন্যরেখায় ওই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
লাশ দেখার সময় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বেদনাবিধুর পরিবেশে দুই মেয়ে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর সীমান্তচৌকির কমান্ডার মো. আবুল হাসান এবং সঙ্গীয় সশস্ত্র টহল দল। বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গোংরা ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ নারায়ণ ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম দুই দেশের সীমান্তবাসীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ হ্রাসেও ভূমিকা রাখবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবি ও বিএসএফের এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
খবরওয়ালা/আরডি