খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, মব সন্ত্রাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অনভিজ্ঞতা ও উদাসীনতার কারণে গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা, রপ্তানিমুখী বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে, আর কর্মসংস্থানের বিপরীতে বেড়েছে বেকারত্ব।
অথচ গত এপ্রিলেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজন করেছিল এক ‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড’ বিনিয়োগ সম্মেলনের। নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী হাজার হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়া, দূতাবাস, প্রাইভেট সেক্টর ও রাজনৈতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেছিলেন, এমনকি নিজের চোস্ত ইংরেজি প্রেজেন্টেশনের লিংকও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সম্মেলনে হাজির ‘বিদেশি’ অতিথিদের পরিচয় ঘেঁটে দেখা যায়, অনেকেই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি, যাঁরা শুধু বিদেশি সেজে বসেছিলেন সম্মেলনের শোভা বাড়াতে। যাঁরা বিদেশি ছিলেন, তাঁদের বিনিয়োগ সক্ষমতা নিয়েও কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে, সম্মেলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রল শুরু হয়। বাস্তবচিত্রে বিদেশি বিনিয়োগ শূন্যতার কাছাকাছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯১ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮% কম। অথচ করোনা-কালেও (২০২০-২১) বিনিয়োগ ছিল ১৩২ কোটি ডলার এবং এর আগের বছর (২০১৮-১৯) ছিল ৩৪৮ কোটি ডলার।
এই বিনিয়োগ হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে— রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সহিংসতা, বিনিয়োগবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি নীতির অনুপস্থিতি, আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও ডলার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, মব সন্ত্রাস ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তাহীনতা
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতির দিকে যায়। উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি বন্ধ হয়ে পথে বসেছে, বড় বড় গ্রুপ হারিয়েছে কোটি কোটি ডলারের কার্যাদেশ।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চোস্ত প্রেজেন্টেশন বা আড়ম্বরপূর্ণ সম্মেলনের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে, ব্যবসায়িক পরিবেশ হবে পুনরুজ্জীবিত। এর আগে শুধু “ইনশাআল্লাহ বলেছি, ভালো হবে”—এমন আশ্বাসে কাজ হবে না।
খবরওয়ালা/এমএজেড