খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রুবিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে মুখ বেঁধে খালের পানিতে ফেলে হত্যা করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী জ্ঞান হারানোর অবস্থায় পড়েন এবং পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ৫টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী রুবিনা আক্তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তার স্বামী বাদল হাওলাদার ও তার শ্বশুর শহীদ হাওলাদারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নানা বিরোধ চলছিল।
রুবিনা আক্তারের বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় তার চাচা শ্বশুর মনির তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন। “আমার স্বামীর সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে আমাকে দোষারোপ করা হতো,” তিনি বলেন। মঙ্গলবার ভোরে সেহরি ও নামাজের জন্য ঘরের বাইরে অজু করতে গেলে পেছন থেকে ৪–৫ জন তাকে ধরে খালের মধ্যে ফেলে দেন এবং ডুবিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেন।
রুবিনা আক্তার জানান, “আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার স্বামী এবং প্রতিবেশীরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতাল ভর্তি করেন। এখন আমার চিকিৎসা চলমান।”
ভুক্তভোগীর স্বামী বাদল হাওলাদার অভিযোগ করেন, “আমার স্ত্রীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা তাকে বরিশালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছি।”
ঘটনায় অভিযুক্ত শহীদ হাওলাদার কালবেলাকে বলেছেন, “আমার সব জমি লিখে দিয়েছি। কিন্তু আমার থাকার জায়গা থেকে সরানোর জন্য মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে। এই হত্যাচেষ্টার বিষয়ে আমি অবগত নই।”
কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| নাম | সম্পর্ক | বক্তব্য/অভিযোগ |
|---|---|---|
| রুবিনা আক্তার | গৃহবধূ | শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে খালে ফেলে হত্যার চেষ্টা করেছে |
| বাদল হাওলাদার | স্বামী | হত্যার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে ফেলা হয়েছে; উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিয়ে গেছেন |
| শহীদ হাওলাদার | শ্বশুর | অভিযোগ অস্বীকার; জমি লিখে দেওয়ার বিষয় উল্লেখ |
| মনির হাওলাদার | চাচা শ্বশুর | স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগে নাম এসেছে |
| ওসি রবিউল ইসলাম | পুলিশ | লিখিত অভিযোগ পেয়েছি; তদন্ত চলছে |
ঘটনাটি স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এমন ভয়াবহ ঘটনা সংঘটিত হতে পারে, যা সমাজে নিরাপত্তা ও নৈতিকতা রক্ষার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে।