চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ শামীম নামের এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মোহাম্মদ শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ওয়ার্ডে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার দিন তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক আটটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমকে ফোন করে বাইরে আসতে বলেন। পরে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময় পর স্থানীয় বেড়িবাঁধ এলাকার পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
নিহতের ভাই মো. সেলিম দাবি করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার ভাষ্যমতে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে শামীমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা। ঘটনার পরপরই এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই ধারণা করছেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নিম্নে ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| নিহতের নাম |
মোহাম্মদ শামীম |
| বয়স |
জানা যায়নি |
| পেশা |
স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক |
| ঘটনা |
শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা |
| স্থান |
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
| সময় |
বুধবার রাত, ৮ এপ্রিল |
| হত্যার ধরন |
ধারালো অস্ত্রের আঘাত |
| সন্দেহভাজন আটক |
দুইজন |
| তদন্ত অবস্থা |
চলমান |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ব বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।