খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। গত পাঁচ বছরে দেশটি বাংলাদেশকে মোট ৩৯ হাজার ২৫৫ জন কর্মীর কোটা বরাদ্দ দিলেও পাঠানো সম্ভব হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৮২৯ জন। অর্থাৎ কোটা পূরণ হয়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) তথ্য বলছে, চলতি বছর (২০২৫) বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার ৩০০ জন কর্মীর কোটা নির্ধারণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে কর্মী পাঠানো গেছে মাত্র ১,২৪৪ জন। অথচ প্রতিবেশী নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান প্রায় পূর্ণ কোটা পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শওকত আলী বলেন, “আমরা প্রক্রিয়ায় কোথাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। ভাষা পরীক্ষার পর স্কিল টেস্টে যারা উত্তীর্ণ হয়, তাদের তালিকা কোরিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো প্রোফাইল দেখে কর্মী বাছাই করে। মূলত কোরিয়ার নিয়োগকর্তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।”
২০০৭ সালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে বোয়েসেল এককভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প, কৃষি ও নির্মাণ খাতে কর্মী পাঠাচ্ছে। তবে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ।
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ ঠিকই নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। নিয়োগকর্তারা জানিয়েছেন, ভাষাগত দক্ষতার কারণে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের শ্রমিকদের প্রতি তাদের ঝোঁক বেশি। ফলে ইপিএস ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
জনশক্তি রফতানিতে এ ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বণিক বার্তা
খবরওয়ালা/এমএজেড