খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
ভারতের সঙ্গীত জগতে যাদুময় সুর সবসময় প্রশংসিত হয়। কিন্তু কখনও কখনও সেই সুরের মধ্যবর্তী নিরবতা গানকেও ছাপিয়ে যায়। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে শ্রীয়া ঘোষাল শুধু সঙ্গীতের কথা বলেননি, তিনি গভীর সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়েও আলোকপাত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ভারতের সঙ্গীত তালিকায় মহিলা কণ্ঠরা গুমরে যাওয়া ছাড়া কিছুই নয়, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশে নারীরা মঞ্চে রাজত্ব করছেন?
পডকাস্টার রাজ শামানির সঙ্গে কথোপকথনে শ্রীয়া ভারতের সঙ্গীত জগতের পরিবর্তিত চেহারার ওপর আলোকপাত করেন। তার মন্তব্য ইতিমধ্যেই নারী ও পুরুষের সমতার প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
শ্রীয়া জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু নারী শিল্পী এখন সঙ্গীত জগতে শীর্ষে রয়েছেন। টেলর সুইফট এবং রিহানার মতো তারকারা চার্ট, স্টেডিয়াম টুর এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এই সাফল্য কোন দুর্ঘটনা নয়। সুইফটের মতো শিল্পীরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীল অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই উচ্চতায় পৌঁছেছেন। অনেক দেশে প্রধান পপ কণ্ঠধারীরূপে নারী শিল্পীরা শুধু গানই করেন না, পুরো শিল্পকেও আকৃতিরত করেন। কিন্তু ভারতের চিত্র ভিন্ন।
শ্রীয়া খোলাখুলি বলেছেন, ভারতের সঙ্গীত জগতে এখনো পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা বজায় রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তালিকায় নারীদের উপস্থিতি সীমিত হয়ে যাওয়াই এই বৈষম্য স্পষ্ট করে।
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের শীর্ষ ৫০ গানের মধ্যে প্রায় ছয়-সাত গানই নারী কণ্ঠধারীদের। এটি কেবল শীর্ষ ১০-এর কথা নয়, বড় তালিকাতেও একই অবস্থা। এই ফাঁকই দেখায় সঙ্গীত ক্ষেত্র কতটা অসম হয়ে গেছে।
| বিভাগ | শীর্ষ ৫০-এর গান | নারী কণ্ঠের সংখ্যা | পুরুষ কণ্ঠের সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| বর্তমান অবস্থা | ৫০ | ৬–৭ | ৪৩–৪৪ |
শ্রীয়া বলেন, এটি সবসময় এমন ছিল না। এক সময় নারীরা ভারতীয় সঙ্গীতে একচ্ছত্র রাজার মতো প্রভাবশালী ছিলেন। লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে কেবল অংশগ্রহণই করেননি, পুরো শিল্পকেই তারা পরিচালনা করতেন। তাদের গানগুলি তখন সিনেমার সাউন্ডকে সংজ্ঞায়িত করত।
শ্রীয়ার মতে, এই ভারসাম্যের অভাব একেবারে সাম্প্রতিক। গত দশকে এই পরিবর্তন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সঙ্গীত শিল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে—শৈলী ও জেনারের মিশ্রণ, নতুন ধারা ও পরিবর্তনশীল ট্রেন্ডের কারণে শিল্প জগৎ এখনও তার দিশা খুঁজছে।
শ্রীয়া আশাবাদী, এই “ফিউশন ও বিভ্রান্তি” শেষ হলে শিল্পটি একটি স্পষ্ট দিশা পাবে এবং নারী কণ্ঠগুলি আবার মূল সঙ্গীত জগতে শক্তিশালী স্থান দখল করতে পারবে।
মোট কথায়, শ্রীয়া ঘোষালের বক্তব্য শুধুমাত্র সঙ্গীত নয়—এটি নারীর স্থান ও সমতার প্রশ্নেও একটি জোরালো আহ্বান।