খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ঘূর্ণিঝড় ডিতওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৫৬ জনের মৃত্যু, ৩৬৬ জন নিখোঁজ এবং প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় পাকিস্তান থেকে পাঠানো মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ নিয়ে কলম্বোতে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। শেহবাজ শরীফের সরকার এই ঘটনার জন্য চাপের মুখে পড়েছে।
এএফপি ও সিএনএনের সহযোগী সংবাদ মাধ্যম নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে আসা মানবিক ত্রাণের চালানে চিকিৎসা উপকরণ, ওষুধ, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য নিত্যপণ্য ছিল।
কলম্বোর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো কিছু পণ্যের মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ। জরুরি সহায়তা হিসেবে আসা ত্রাণ উপকরণ পরীক্ষা করে বেশ কয়েকটি কার্টনে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অযোগ্য পণ্য চিহ্নিত করা হয়।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছে। সামাজিক মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে একটি ত্রাণ প্যাকেটের মেয়াদ ২০২৪ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের সময় এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টটি আর পাওয়া যায়নি।
কলম্বো আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসলামাবাদে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি অত্যন্ত বিব্রতকর, বিশেষত এমন সময়ে যখন দেশটি ভারত মহাসাগরে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এটিকে অপমানজনক এবং ত্রাণ কূটনীতি বলে উল্লেখ করেছেন এবং সরকারকে পাকিস্তানের কাছে জবাব চাইতে আহ্বান জানিয়েছেন।
পূর্বের নজির অনুযায়ী পাকিস্তানের ত্রাণ কূটনীতি সমালোচিত হয়েছে; ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের সময় গরুর মাংস দিয়ে তৈরি খাবার পাঠানোয় জনরোষের মুখে পড়ে ইসলামাবাদ।
এদিকে, শ্রীলঙ্কায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তিনি এই দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: নিউজ ১৮
খবরওয়ালা /এসএস