খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা দল বড় ধাক্কা খেল, যখন তাদের গতি তারকা মাথিশা পাতিরানা চোটের কারণে টুর্নামেন্টের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেলেন। আইসিসির ইভেন্ট টেকনিক্যাল কমিটি এই পরিবর্তন অনুমোদন করেছে এবং পাতিরানার স্থলে বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা দলে সংযুক্ত হয়েছেন।
সোমবার পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র চার বল করার পরই পাতিরানা বাম পা চেপে ধরে মাঠে লুটিয়ে পড়েন। পরে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন এবং ম্যাচে আর ফেরেননি। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা অষ্ট উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়। আইসিসি জানিয়েছে, পাতিরানার বাম পায়ে মাংসপেশিতে টান (Muscle Strain) লেগেছে, যার কারণে তাকে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এটি শ্রীলঙ্কার জন্য দ্বিতীয় বড় ইনজুরি সংকট। আসরের শুরুতেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লেগ-স্পিন অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়েন। এই দুই ইনজুরি শ্রীলঙ্কার জন্য বড় ধাক্কা, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচগুলো সামনে থাকায়।
পাতিরানার স্থলাভিষিক্ত দিলশান মাদুশঙ্কা সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছিলেন ২০২৫ সালের আগস্টে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। চলতি মাসের শুরুতে ওমানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি তিন ওভার বল করেছেন, যদিও কোনো উইকেট পাননি।
২৪ বছর বয়সী মাদুশঙ্কা এখন পর্যন্ত ১৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন। তার সেরা পারফরম্যান্স এসেছে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে, যেখানে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন।
শ্রীলঙ্কা তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বোয় জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। দলের প্রস্তুতি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই নতুন সংযোজন মাদুশঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
| খেলোয়াড়ের নাম | ইনজুরি / অবস্থা | পরিবর্তন / স্থলাভিষিক্ত খেলোয়াড় | সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ |
|---|---|---|---|
| মাথিশা পাতিরানা | বাম পায়ের মাসল স্ট্রেইন | দিলশান মাদুশঙ্কা | ২০২৫ আগস্ট, জিম্বাবুয়ে বনাম শ্রীলঙ্কা ওডিআই |
| ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা | হ্যামস্ট্রিং চোট | – | ২০২৬ ফেব্রুয়ারি, আয়ারল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি |
শ্রীলঙ্কার জন্য এই ইনজুরি বিপর্যয় এবং নতুন খেলোয়াড় সংযোজনের মাধ্যমে দলের ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং বলিং শক্তি পরীক্ষা হবে। বিশেষত সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রতিটি খেলোয়াড়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।