খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আঘাত পেয়েছেন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরৎনগর রেলওয়ে স্টেশনে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রসমূহ জানায়, এর আগের দিন রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া স্টেশনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের চারটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই মেরামতের কাজ চলায় সোমবার রাতে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে শরৎনগর স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ট্রেনটি ছাড়তে দেরি হওয়ায় যাত্রীরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। প্রথমে তাঁরা স্টেশন মাস্টারকে প্রহার করার চেষ্টা চালান। এরপর আরও যাত্রী নিচে নেমে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে স্থানীয় মানুষজন বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্থানীয়দের ওপর চড়াও হন। নজরুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি একটি মসজিদে আশ্রয় নিলে সেখানেও যাত্রীরা আক্রমণ চালান। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে অন্য গ্রামবাসীর কাছে খবর পাঠানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে যাত্রীদের প্রতিরোধ করেন। একপর্যায়ে ট্রেনের যাত্রীরা পিছু হটে এলাকা ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্রেনটিকে স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেয়।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন জানান, অন্য একটি ট্রেনের লাইনচ্যুত ইঞ্জিন রেললাইনে থাকার কারণে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ৮টা ৩২ মিনিট থেকে ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত শরৎনগর স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। এই সময়ে কিছু যাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে তাঁকে মারধরের চেষ্টা করেন। কক্ষটি আটকানো থাকায় তাঁরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরে স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে তাঁদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়েই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন