খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ধীরে ধীরে সংসদ ভবনের প্রাঙ্গণে প্রবেশ শুরু করেছেন। সকাল ৯টা থেকে ভবনের প্রধান গেটে তাদের গাড়ি প্রবেশের ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এই দিন তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন, যা সকাল ১০টায় শুরু হবে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে সংসদের মূল শপথকক্ষে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
রেওয়াজ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি’র এমপিরা প্রথমে শপথ নেবেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য টানা তিনটি সংসদ অর্থাৎ ১৫ বছর পর বড় একটি রাজনৈতিক পুনরাবৃত্তি। বিএনপি ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং ২০১৮ সালে অংশগ্রহণের পর ভোট বয়কট করেছিল। এই কারণে আজকের শপথ গ্রহণ রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যও যুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। এতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এবার অতিসতর্কভাবে নেওয়া হয়েছে। শপথকক্ষে প্রবেশের সময় নির্বাচিত এমপিদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া, সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। notable অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন:
| দেশ | প্রতিনিধি | পদবী / দায়িত্ব |
|---|---|---|
| মালদ্বীপ | মোহাম্মদ মুইজ্জু | প্রেসিডেন্ট |
| ভারত | ওম বিড়লা | লোকসভার স্পিকার |
| পাকিস্তান | প্রতিনিধি | সংসদ সদস্য / প্রতিনিধি |
| অন্যান্য সার্কভুক্ত দেশ | ৬ জন | পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিনিধি |
নির্বাচন কমিশন প্রশাসনকে এই অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) সহ সকল মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা।
নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ শেষে দায়িত্ব গ্রহণ করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় সংসদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।