খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ের পর উপস্থিত হওয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ হতে পারে না। সংসদের মর্যাদা ও কার্যকারিতা রক্ষায় মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য তিনি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিন সংসদের কার্যক্রম শুরু থেকেই কিছুটা অগোছালো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। বিশেষ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন মন্ত্রী—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী—অধিবেশনে যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের অনুপস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জননিবন্ধিত নোটিশ নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর নিষ্পত্তি করতে হয়। এই বিলম্বের কারণে সংসদীয় কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা পরিলক্ষিত হয়।
মাগরিবের বিরতির পূর্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম ঘোষণা করা হলে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য বাবর ফ্লোর নিয়ে জানান যে, তিনি ওইদিন বক্তব্য দেওয়ার জন্য কোনো সময় চাননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং একটি তালিকা প্রদর্শন করে বলেন যে, তালিকাগুলো হুইপ দপ্তরের পক্ষ থেকেই সরবরাহ করা হয়। প্রথমে ছাপানো এবং পরে হাতে লেখা তালিকা দেওয়া হলেও সময়মতো বক্তা খুঁজে না পাওয়া নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানান যে, তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের সাথে হুইপরা কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওইদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে সংসদের ‘প্রাণ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্যই প্রধানমন্ত্রীর সামনে বক্তব্য দিতে আগ্রহী থাকেন, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বক্তার সংকট দেখা দেয়।
সংসদের সামনের সারিতে মাত্র তিনজন মন্ত্রীকে উপস্থিত দেখে স্পিকার পুনরায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা যখন তাদের নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল বা জনদুর্ভোগের কথা বলেন, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের তা গুরুত্বের সাথে শোনা এবং প্রয়োজনীয় নোট নেওয়া আবশ্যক। তিনি চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে বলেন, স্পিকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের যেন অনুরোধ করা হয় তারা যেন সংসদে উপস্থিত থেকে সদস্যদের কথা শোনেন। স্পিকারের এই বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাকে সমর্থন জানান।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে জানান যে, অনেক মন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ কারণেই সামনের সারিতে মন্ত্রীদের উপস্থিতি কম। তবে তিনি দাবি করেন যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারিতে প্রায় ৩০ জনের মতো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত রয়েছেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন তা রেকর্ড করা হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সংসদ অধিবেশনের আলোচিত কিছু দিক নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | আলোচনার বিষয় | স্পিকার ও সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ |
| ০১ | মন্ত্রীদের উপস্থিতি | সামনের সারিতে মাত্র ৩ জন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। |
| ০২ | অধিবেশনে বিলম্ব | স্বরাষ্ট্র ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী দেরিতে আসায় নোটিশ নিষ্পত্তিতে ১ ঘণ্টা বিলম্ব। |
| ০৩ | বক্তা তালিকা | বক্তাদের নাম তালিকায় থাকলেও সময়মতো তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। |
| ০৪ | প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি | প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ কম ছিল। |
| ০৫ | স্পিকারের নির্দেশনা | সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়নমূলক কথা শুনতে মন্ত্রীদের বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হবে। |
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বিশেষ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং যোগাযোগমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর মন্ত্রীদের উপস্থিতির ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সংসদের ফ্লোরে যে আলোচনা হয়, তার মর্যাদা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। আলোচনার শেষ পর্যায়ে চিফ হুইপ আশ্বস্ত করেন যে, স্পিকারের এই কঠোর বার্তা তিনি অনুপস্থিত মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছে দেবেন এবং ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রমে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন। এভাবেই ক্ষোভ ও নির্দেশনার মধ্য দিয়ে সংসদের ওই দিনের কার্যসূচি অতিবাহিত হয়।