খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রার্থীকে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত রিটার্ন রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং জনগণের নৈতিক বিশ্বাস রক্ষা করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম ইকবাল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সব রিটার্নিং অফিসারকে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৪৪(গ) অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীদের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীকে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই রিটার্নে নির্বাচনী প্রচারণার সকল ব্যয়, বিজ্ঞাপন, সভা-সমাবেশ ও প্রচার সামগ্রী সংক্রান্ত খরচ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, ঠিকানা ও সম্পর্কিত তথ্য সংবলিত গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসি কর্তৃক জারি করা পরিপত্র-১৮ অনুসারে, রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যথাসময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যয়ের রিটার্ন গ্রহণ করবেন এবং তা নিশ্চিত করবেন।
নির্ধারিত সময়ে দাখিলকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্ব-স্ব নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্নের তথ্য ২৫ মার্চ ২০২৬ তার মধ্যে ইসির কাছে প্রেরণ করতে হবে। ইসি এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী ব্যয়ের পর্যালোচনা করবে এবং যদি কোন প্রার্থী সময়মতো বা সঠিক তথ্য দাখিল না করে, তবে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রার্থীদের আর্থিক দায়বদ্ধতা সহজে বোঝার জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নির্বাচন | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ |
| গেজেট প্রকাশের তারিখ | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| বিধান | গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২, ধারা ৪৪(গ) |
| রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা | নির্বাচিত প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে |
| দাখিলকৃত তথ্য প্রেরণের শেষ তারিখ | ২৫ মার্চ ২০২৬ |
| দাখিলকৃত তথ্যের বিষয়বস্তু | নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার খরচ |
| প্রক্রিয়ার রেফারেন্স | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিপত্র-১৮ |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার | সব রিটার্নিং অফিসার |
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রার্থীদের মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সততার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এটি ভোটারদেরও নিশ্চিত করবে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দমনমূলক বা অনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়নি। প্রতিটি প্রার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য দাখিল করতে হবে, যা নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।