সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও, এবারই প্রথমবার রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হবে।

ব্যতিক্রমী আয়োজন ও রাজনৈতিক তাৎপর্য

জাতীয় সংসদকে গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং বিজয়ী দল বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ দেড় বছর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকলেও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংসদ ভবন এলাকাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং তদন্ত কমিশনের কার্যালয়গুলো এখানে ছিল। সর্বশেষ ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটিও দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ায়, স্থানটি এক নতুন রাজনৈতিক মাহাত্ম্য পেয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও প্রস্তুতি

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর শুক্রবার রাতেই বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই জাতীয় সংসদ সচিবালয় শপথ অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবারের কার্যক্রম হবে নিম্নরূপ:

অনুষ্ঠানের নাম সময় (সম্ভাব্য) স্থান শপথ বাক্য পাঠ করাবেন
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার সকাল ১০:০০ টা জাতীয় সংসদ ভবন (শপথকক্ষ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০ টা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, ১৭ তারিখের এই দ্বিমুখী শপথ অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু দক্ষিণ প্লাজা একটি উন্মুক্ত স্থান, তাই শীতকালীন আবহাওয়া ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সংখ্যার কথা বিবেচনায় রেখে সেখানে বিশেষ প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উত্তরণ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে দীর্ঘ সময় সংসদীয় কর্মকাণ্ড স্থবির থাকলেও সংস্কার কার্যক্রম থেমে থাকেনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশনের আগ্রহে সংসদ ভবন এলাকাটি সংস্কারের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।

নতুন সরকারের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে আবারও গণতান্ত্রিক ধারা পূর্ণ শক্তিতে ফিরে আসছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের স্থিতিশীলতার আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বঙ্গভবন নয়, জনগণের প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি আগামীর রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বার্তা বহন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।