খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৬ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ের বাদামতলায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা মিছিল নিয়ে এসে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল শেষে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা, যার ফলে ফটকটি বন্ধ হয়ে যায় এবং গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের সামনে সমাবেশ করে কর্মচারীরা জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। তবে এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে তারা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে। কর্মচারীরা অভিযোগ করছেন, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ সাড়ে চার দশক আগের কিছু ‘নিবর্তনমূলক ধারা’ পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে, যা সংবিধানবিরোধী এবং চাকরিজীবীদের অধিকার খর্ব করে।
পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর এই অধ্যাদেশকে ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের চার ধরনের কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এগুলো হলো:, অনানুগত্য বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কাজে জড়ানো,, যৌক্তিক কারণ বা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অন্যকে কর্মবিমুখ করতে উসকানি বা প্ররোচনা দেওয়া, অন্য কর্মচারীর কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান।
এসব ক্ষেত্রে দণ্ড হিসেবে কর্মচারীকে নিম্নপদে অবনমন, চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা যেতে পারে।
অভিযোগ গঠনের সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং দণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত হলে অভিযুক্ত কর্মচারীকে আরও সাত দিনের মধ্যে উত্তর দিতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন, তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে না; কেবল পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।
বর্তমানে দেশে আনুমানিক ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, এবং এই অধ্যাদেশ তাঁদের সবাইকে প্রভাবিত করবে। আন্দোলনকারীরা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।