খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও আহতদের অনুদান দেওয়ার একটি সরকারি সুযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে দেওয়া হয়। নিহতদের পরিবার পায় ৫ লাখ টাকা এবং আহতদের দেওয়া হয় ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অবগত নন।
বিআরটিএর এই অনুদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০২৩ সাল থেকে। আজ বুধবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এই তথ্য দেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ। সভায় তিনি উপস্থিত পরিবহন শ্রমিক, মালিক, বাসচালক ও হেলপারদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তাঁরা কি এই অনুদানের বিষয়ে জানেন? বেশ কয়েকজন তখন উচ্চস্বরে জানান, তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।
এরপর বিভাগীয় কমিশনার উপস্থিত বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অনুদান প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে বলেন। একজন কর্মকর্তা বলতে গিয়ে ‘উপজেলা অফিসার’ শব্দ ব্যবহার করলে কমিশনার তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘উপজেলা অফিসার নয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলতে পারেন না?’ তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন, আহত বা নিহতদের তথ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ট্রাস্টি বোর্ডে পাঠাবেন।
এরপর কমিশনার জানতে চান, গত ২৪ আগস্ট রাজশাহীর বাগমারায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারকে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে কি না। তা যাচাই করতে তিনি বাগমারার ইউএনও মাহবুবুল ইসলামকে সরাসরি ফোনে কথা বলেন। ফোনে কমিশনার জানতে চান, ‘ওই ঘটনায় দুই শিশুর মা মারা গিয়েছিলেন, তুমি গিয়েছিলে?’ ইউএনও জানান, ‘জি স্যার, গিয়েছিলাম। বাচ্চারা এখন ভালো আছে। তাঁদের ৫০ হাজার করে মোট এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে উপজেলা পরিষদের অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত থেকে।’
এতে কমিশনার প্রশ্ন করেন, ‘বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া যায়, এটা তুমি জানো?’ ইউএনও উত্তর দেন, ‘জি স্যার, জানা ছিল না।’ তখন কমিশনার বলেন, ‘এই তথ্য শুধু তুমি না, অনেকেই জানে না। এখন থেকেই সবাই জানবে—যদি কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, তার পরিবার ৫ লাখ টাকা, আর আহত হলে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওরা যেন দ্রুত আবেদন পাঠান।’
বিভাগীয় কমিশনার আরও জানান, সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনার এক মাসের মধ্যে অনুদানের জন্য আবেদন করতে হয়, তবে রাজশাহীতে যেন এক বছরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা যায়—এমন নির্দেশনা তিনি দেবেন। এ বিষয়ে তিনি বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান।
সভায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘প্রতিটি গাড়ির ফিটনেস নেওয়ার সময় মালিকদের কাছ থেকে এই খাতে ১ হাজার ৭০০ টাকা নেওয়া হয়। এই টাকাই দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতদের সহায়তায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিষয়টি অনেকেরই অজানা। আজ সবাই জানলেন, এটা ইতিবাচক।’
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। এতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফয়সাল হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।