খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৭ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িটি সম্প্রতি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি আগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে এখনো এই বাড়িটি সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এটি সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি নয়। এই ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ঐতিহাসিক বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং তিনি মোদি সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে নজর দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে, বলিউডের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি টুইট করেছেন, ‘এই বাড়িটা ভেঙে এই বার্তা দিল যে, ওরা শিল্পকে ভয় পায়। হিংসায় উসকানি দেয়। এই কাজ ওদের মুখোশ খুলে দিল। অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছি এই ঘটনায়। ইউনূস সরকারের তত্ত্বাবধানে এরা ভারতরত্ন সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ভেঙে ফেলল কোন আক্কেলে!’ এদিকে রূপালির এই মন্তব্যের পর বলিউডের অনেকেই তার সমর্থনে কথা বলেছেন।
সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আগে শুনেছিলেন যে, এই বাড়ি পুনঃনির্মাণ করা হবে, তবে হঠাৎ শুনলেন যে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সুকুমার রায়ের উপর তথ্যচিত্র করার সময় সত্যজিৎ রায় বাংলাদেশে গিয়ে সেই বাড়িতে শুটিং করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাড়িটির ভগ্নদশার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিকিশোর রায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জমিদার ছিলেন এবং তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যের পথিকৃৎ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ। ১৯৮৯ সাল থেকে এই ভবনটি শিশু একাডেমি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল।
বর্তমানে ভবনের বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ভবনটি ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া ও গাছপালায় ঢাকা সাইনবোর্ড দেখা যায়। জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. মেহেদী জামান জানিয়েছেন, ২০০৭ সালের পর ভবনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং ঝুঁকি থাকায় মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে, ভবনটি ভাঙা হচ্ছে এবং সেখানে আধাপাকা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঐতিহাসিক ভবনটি ভাঙার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক স্বপন ধর ভবনটির স্থাপত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘যেহেতু ভবনটি রক্ষা করা এখন সম্ভব নয়, তাই অন্তত তার পুরনো আদল ও ঐতিহ্য বজায় রেখে নতুন স্থাপনাটি নির্মাণ করা হোক।’
খবরওয়ালা/আরডি