খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:১১ এএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবিচল সাহস, দৃঢ়তা ও নৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য এবং চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতির সংকটকালে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁদের আপসহীন অবস্থান আজও আমাদের পথ দেখায় এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।
আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষে শনিবার রাতে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকাবহ ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতার ঠিক প্রাক্কালে সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞ ছিল সদ্যজন্ম নেওয়া রাষ্ট্রকে মেধাশূন্য করার একটি ঘৃণ্য অপচেষ্টা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রধান ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের মুক্তির সংগ্রামকে আরও বেগবান করে তোলে। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সেইসব সূর্যসন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়, বুদ্ধিজীবীরা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম রূপকার। তাঁরা মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশের মাধ্যমে একটি জ্ঞাননির্ভর, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ঠিক এ কারণেই পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণের অব্যবহিত পূর্বে ঢাকাসহ সারা দেশে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। নির্মমভাবে গুম ও হত্যা করা হয় দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদসহ অসংখ্য গুণীজনকে।
স্বাধীনতার উষালগ্নে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষত বাংলাদেশ আজও বহন করে চলেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও ন্যায়বোধকে ধারণ করেই একটি অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক, সুখী-সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারলেই তাঁদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সবাইকে তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পেশাগত ক্ষেত্র (উল্লেখযোগ্য):
| পেশা/ক্ষেত্র | জাতির জন্য অবদান |
|---|---|
| শিক্ষাবিদ | জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন |
| সাহিত্যিক | ভাষা, সংস্কৃতি ও চিন্তার বিকাশ |
| চিকিৎসক | জনস্বাস্থ্য ও মানবসেবা |
| বিজ্ঞানী | গবেষণা ও উদ্ভাবন |
| প্রকৌশলী | অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়ন |
| সাংবাদিক | সত্য ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা |
| শিল্পী ও দার্শনিক | নৈতিকতা ও নান্দনিক বোধের বিকাশ |
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এই দিনে তাঁদের আদর্শকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
মন্তব্য