খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের ব্যাংকিং খাতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গঠিত রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান। গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এই নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারের সম্মতির চিঠি পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ ৩১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী এই ব্যাংকার বর্তমানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে আগামী তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ কার্যকর হবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্ষদ সভায় উত্থাপন করা হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনাপত্তি গ্রহণ সাপেক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান দেশের অন্যতম মেধাবী ও দক্ষ ব্যাংকিং ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশি ও বিদেশি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। নিচে তাঁর অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরা হলো:
| পদের নাম | প্রতিষ্ঠান | প্রধান দায়িত্ব ও বিশেষত্ব |
| অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) | ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) | ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ও ট্রানজেকশন ব্যাংকিং। |
| উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) | ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড | ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও কৌশলগত উন্নয়ন। |
| কান্ট্রি চিফ রিস্ক অফিসার | হাবিব ব্যাংক লিমিটেড (বাংলাদেশ) | আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ড ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | কৌশলগত ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন। |
সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশালাকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই একীভূতকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকট দূর করা। ব্যাংকটির মূলধনী কাঠামো দেশের যে কোনো ব্যাংকের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী।
ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার একাই জোগান দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার থেকে সমন্বয় করা হবে। এই বিশাল অংকের মূলধন ও বিশাল কর্মীবাহিনী পরিচালনার জন্য নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন প্রাণসঞ্চার হবে। বিশেষ করে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের ইসলামী ব্যাংকিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার গভীর জ্ঞান ব্যাংকটিকে দ্রুত স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একীভূত ব্যাংকগুলোর অনাদায়ী ঋণ (NPL) আদায় করা হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারের নিরঙ্কুশ সমর্থন ও বিশাল মূলধনী ভিত্তি এই যাত্রাকে সহজতর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই এমডি নিয়োগের ফলে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে শুরু হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।