খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
সরকার সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫’ গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘প্রধান উপদেষ্টা প্রীত হয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য (বেসামরিক কর্মকর্তা/কর্মচারী ব্যতীত) ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫’ নামে একটি বেতন কমিটি গঠনের জন্য সদয় অনুমোদন প্রদান করেছেন।’
কমিটিকে জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সঙ্গে সমন্বয় ও নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করতে বলা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের সুপারিশের ২৫ কপি বই আকারে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে জমা দিতে হবে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠিত হয়।
সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কমিটিতে মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জহির উদ্দিন, এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং চ ছা মং, এয়ার কমডোর জামিল উদ্দিন আহম্মদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিলিয়া শারমিন এবং ক্যাপ্টেন মো. তৌহিদ সাগরকে সদস্য করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিশাদুল ইসলাম খান কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্বে আছেন।
কমিটিকে সশস্ত্র বাহিনীর আওতাভুক্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের (এমওডিসি এবং ধর্মীয় পরামর্শদানকারী কর্মকর্তাসহ) বর্তমান বেতন-ভাতা, অবসর ভাতা ও পারিবারিক অবসর ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে সময়োপযোগী ও যথোপযুক্ত বেতন কাঠামো নির্ধারণে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও, কমিটিকে বিশেষায়িত চাকরিধারীদের বেতন কাঠামো, বেতন-ভাতার ওপর আরোপযোগ্য কর, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, প্রেষণ, কার্যভার, মহার্ঘ, উৎসব ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতার মতো অন্যান্য সুবিধা নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়ের পদ্ধতি, পেনশনসহ অবসর সুবিধা, কাজের মান মূল্যায়ন, সরাসরি সেবার আর্থিক সুবিধা নগদায়ন এবং রেশন সুবিধার যৌক্তিকীকরণের সুপারিশও কমিটিকে দিতে বলা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড ও ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্তিতে বেতনক্রম নিরীক্ষার অসংগতি দূরীকরণ এবং বাহিনীগুলোর মধ্যে বেতন-ভাতার বৈষম্য দূরীকরণেরও সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
কমিটিকে জীবনবেগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির বিষয়ে পদমর্যাদা ও পদবিন্যাস নির্ধারণ, কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট গুচ্ছভুক্ত করা, উচ্চতর স্তরে পদায়নে প্রতিযোগিতার সুযোগ নির্ধারণ এবং পদোন্নতিতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।
পিতা-মাতাসহ অনূর্ধ্ব ছয়জনের একটি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়, দুই সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্পদ পরিস্থিতি, দারিদ্র্য নিরসনের উপায় এবং মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও, দেশের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পর্ক, জীবনযাত্রার ব্যয়ভার, জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাবিত স্কেলের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা, সশস্ত্র বাহিনীর অতীত কীর্তি ও ভাবমূর্তি, শান্তি ও যুদ্ধকালীন কর্তব্য, কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগী জীবন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা বজায় রাখা, অল্প বয়সে অবসর গ্রহণ এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার মতো বিষয়গুলো কমিটিকে বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করবে। প্রয়োজনবোধে যেকোনো সংস্থা বা ব্যক্তির সহায়তা নিতে পারবে। কমিটি তিন বাহিনীর জন্য পৃথক সাব-কমিটি গঠন করে তাদের সুপারিশও বিবেচনা করতে পারবে। সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো সদস্যকে প্রয়োজনে এই কমিটি বা সাব-কমিটির সঙ্গে সংযোজন করা যেতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন