খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
সাংবাদিকরা কতটুকু স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন, সেটি জাতির গণতান্ত্রিক পরিমাপেরও প্রতিফলন।
এমন মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবর্তিত গণমাধ্যম দেখতে চাই, যেখানে একজন সাংবাদিক কোনো পক্ষের চাপ ছাড়াই ঘটনার গভীরে গিয়ে সত্য তুলে ধরতে পারবেন— যেখানে অনুসন্ধানই হবে সত্যের সমাহার, আর দায়িত্ববোধই হবে সাংবাদিকতার মূল শক্তি।”
শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার : চ্যালেঞ্জ ও নীতি প্রস্তাবনা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক ছিল ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি।
সিনিয়র সচিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, এটি নতুন জ্ঞান সৃষ্টিরও প্রাণকেন্দ্র। গবেষণার মাধ্যমে এখানে সমাজ, রাষ্ট্র ও গণমানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের দর্পণ। এর স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা— দুটিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা জাতির গণতান্ত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।”
অনুষ্ঠানে ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “অনলাইন গণমাধ্যম এখন বাংলাদেশের তথ্যপ্রবাহের মূল স্রোতে পরিণত হয়েছে। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক টেকসইতা। এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা না করলে গণমাধ্যমের প্রতি জনবিশ্বাস টিকে থাকবে না।”
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপসচিব জুলকার নায়ন বলেন, “সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা টিকে থাকতে পারে না। এটি এখন সময়ের দাবি।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত। ভয় বা চাপের মধ্যে থেকে কখনও সত্যিকারের সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।”
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সরকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশে ডিফেন্স জার্নালিজমকে একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রাপ্তি ও নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।”
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, “ইসলামে সত্য প্রকাশ ও ন্যায়ের প্রতি প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমও যদি এই নীতিকে অনুসরণ করে, তাহলে সমাজে ন্যায় ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি। সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মত বা রাজনৈতিক ঝোঁক কখনোই সংবাদ উপস্থাপনে প্রভাব ফেলতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা রাজিউর রহমান, সভাপতি কালাম মুহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম পরশসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
খবরওয়ালা/আশ