খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্ত আরব আমিরাতের সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল সম্প্রতি দেশবাসীকে অনলাইনে আর্থিক তথ্য ব্যবহার নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কাউন্সিল জানায়, ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সম্পর্কিত তথ্য এখনো সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য, এবং এই ধরনের তথ্য লোপাটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কাউন্সিলের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রতারকরা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আক্রমণ ছাড়াও পরোক্ষ উপায়ে পরিচয় চুরি করছে। এ ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা প্রথমে ইমেইল বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার লাভ করে, এরপর আর্থিক তথ্য চুরি করে থাকে।
সাপ্তাহিক “সাইবার পালস” সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে কাউন্সিল জানিয়েছে, সহজ কয়েকটি সতর্কতা মানলে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে:
আর্থিক তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা।
ব্যাংক বা পেমেন্ট ডিটেইল মোবাইল বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সংরক্ষণ না করা।
সন্দেহজনক বা অবিশ্বস্ত বিজ্ঞাপন ও বার্তা এড়ানো।
কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ সাইবার হামলা চুরির লগইন ডিটেইল ব্যবহার করেই শুরু হয়। তাই ব্যবহারকারীদের নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
নিরাপদ ডিভাইসে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা।
দুই-স্তরের প্রমাণীকরণ (2FA) সক্রিয় রাখা।
সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা।
অবিশ্বস্ত অ্যাপ্লিকেশন সরিয়ে ফেলা।
পাবলিক বা ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার না করা।
শক্তিশালী, অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অবাঞ্ছিত কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক এলার্ট সক্রিয় করা।
নিচের টেবিলে অনলাইনে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মূল সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| সাইবার সুরক্ষা পদক্ষেপ | বিবরণ |
|---|---|
| লগইন তথ্য সুরক্ষা | অজানা ডিভাইসে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ না করা |
| দুই-স্তরের প্রমাণীকরণ | অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর সক্রিয় করা |
| সফটওয়্যার আপডেট | সর্বশেষ নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করা |
| সন্দেহজনক লিঙ্ক এড়ানো | অবিশ্বস্ত ইমেইল, বার্তা বা বিজ্ঞাপন এড়ানো |
| ব্যাংক এলার্ট | অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অবিলম্বে সতর্কতা পাওয়া |
| পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্কতা | পাবলিক নেটওয়ার্কে ব্যাংকিং এড়ানো |
“সাইবার পালস” প্রচারণা এখন দ্বিতীয় বছরে, যার লক্ষ্য অনলাইন আচরণকে আরও নিরাপদ করা, ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যে একটি সুরক্ষিত ও প্রতিরোধী সাইবার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করা।