সাখাওয়াত টিপু
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
এক আহত সাক্ষীর কথোপকথন
১
কার চিৎকার?
—আহতদের কণ্ঠস্বর!
কিসের গোঙানি?
—কান্নার তীব্রতা!
কী বলকাচ্ছে?
—রক্তের স্রোত!
তুমি কি এতক্ষণ দুঃস্বপ্নের মধ্যে ছিলে?
—না!
তাহলে?
—জীবনের মস্ত অপচয় দেখলাম!
২
বাচ্চাটা কার?
—জানি না!
মা কোথায়?
—হাসপাতালে কাঁদছে!
বাবার নাম?
—এক মৃত সৈনিক!
বোমা হামলায় সে বাম হাত হারায়
বুলেটের আঘাতে ডান হাত উড়ে যায়
আর বাম পা ছাদ ধসে পিষ্ট হয়ে যায়
এখন ডান পায়ে বিশ্বকে লাথি মারছে!
৩
তারপর কী হলো?
—ভবিষ্যৎ সামনে রেখে
একটি অ্যাম্বুলেন্স হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে
চলে গেল অনিশ্চয় তার দিকে…
নিষ্পাপ কবিতা লেখার দিন শেষ
(গাজার যুদ্ধে শহীদ কবি হেবা কামালের প্রতি)
আহা, কী যে কুয়াশাচ্ছন্ন দিন
ধোঁয়ায় ঢাকল সমস্ত আকাশ!
মাথার ওপরে ঢের, অনেক—
ভুল দিকে চলল যুদ্ধবিমান!
চিৎকার, রুদ্ধশ্বাস আর হাহাকার
সব মিশে গেল সাগরের স্রোতে!
আমরা শুনেছি, কোথাও হয়তো—
জলপাইগাছের কথা, বাক্স্বাধীনতা,
তরমুজগাছের দুঃখ, রক্তভেজা স্বর।
হেবা কি একাই ছিল—জানেন খোদা!
দূরে, বহু দূরে, বইছিল চেনা শব্দের মিছিল
অথচ শুনছে সে, জীবনের ভয়ানক কান্না!
সে লিখছে আহত হৃদয়—
আহত রক্ত কীভাবে শুকিয়ে যায়!
নিষ্পাপ শিশু কীভাবে এতিম হয়!
ধ্বংসস্তূপে জীবন যেন হারিয়ে যায়!
কীভাবে ভূমিহীন হয় অসংখ্য মানুষ!
আর যারা বেঁচে থাকে, তাদের স্মৃতিরা
পাথরে পুঁতে রাখা ঘাসের মতো সাদা!
বোমা ফুটবার আগে কি ভাবছিল সে—
পাখিদের কোনো সীমানা নেই
তাদের কোনো যুদ্ধবিমান নেই
তাদের আছে শুধু মুক্ত ডানা
আছে এক স্বাধীন নীলাকাশ
ঠিক কবির মুক্ত মতের মতো।
অথচ বোকা বোমা জানে না, জীবন কতই না সুন্দর
ঘাতক বুলেট জানে না, মানুষের আত্মা কতটা পবিত্র!
বাতিল কবিতা
না—না—বলে দুবার ফিরিয়ে দিল ডানা
বাতিল পৃথিবী যেন বিপর্যস্ত একতিল ঠাঁই
কখনোই উঠে দাঁড়াতে পারবে না আর।
আকাশ পেরোব বলে ভরসা রেখেছি ভাষা
বামে কাত হয়ে আছে মাথা আর ডান চোখ
এককান খাড়া রাখা ওই ভাবার্থের ধ্যানে!
তুমি কি শুনতে পাও হে বিপন্ন ভোরবেলা
যে শব্দে পাতার আগে ফুল ঝরে যায় ফের
চড়ুই জাগাতে চেয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছে ঢের!
কত ইতিহাস চাপা আছে লাল ইটের ভেতর
চাপা শব্দ চাপা কান্না চাপা হাসির ইতর কথা
ফাঁপা অর্থ দিয়ে জীবন পেরোনো কত না সহজ।
যে বাতিল ছন্দে হাসি ফাটা বেরোয় মুখোশে
অথচ তোমার পেরোবার পর বাক্যে ও কথায়
পরিযায়ী সময় থমকে গেছে ব্যর্থ দুনিয়ায়!