খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ফরিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িতে একদল দুর্বৃত্তের বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই হামলায় নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে উজ্জ্বল আকন্দের চাচাতো ভাই শাহিন মিয়া পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ হাট থেকে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নয়নপুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে ১৩-১৪ জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা অটোরিকশাটি ভাঙচুর শুরু করে এবং শাহিনকে বেধড়ক মারধর করে।
শাহিনের চিৎকারে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে শাহিন ও তার আত্মীয়রা দৌড়ে উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িতে আশ্রয় নিলে দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। তারা বাড়ির আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং উপস্থিত নারী-পুরুষদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উজ্জ্বল আকন্দের দাবি, হামলাকারীরা তার চাচা ছকু আকন্দ এবং চাচাতো ভাই ইউনুস আকন্দের ঘরবাড়িতেও ব্যাপক তছনছ করেছে।
হামলায় আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিচে আহতদের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | গ্রাম | বর্তমান অবস্থা |
| ছকু আকন্দ | ৫৫ বছর | নয়নপুর | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| মোর্শেদা বেগম | ৪০ বছর | নয়নপুর | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| মনজুরুল ইসলাম | ৪২ বছর | নয়নপুর | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| শাহিন মিয়া | ৩০ বছর | নয়নপুর | প্রাথমিক চিকিৎসা প্রাপ্ত |
| অন্যান্য (৫ জন) | – | নয়নপুর | প্রাথমিক চিকিৎসা প্রাপ্ত |
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন উজ্জ্বল আকন্দ। তিনি অভিযোগ করেন, তার পরিবারের সদস্যরা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব পারভেজ সরকারও একই অভিযোগ তুলে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম। তার ভাষ্যমতে, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং স্থানীয় একটি বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উজ্জ্বল আকন্দ বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জের, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত চলছে। দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নয়নপুর গ্রামে বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন বিচার এবং জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।