খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর ভাষণের বড় অংশ ছিল গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে। দুই বছর ধরে গাজায় চলমান ইসরায়েলি নৃশংসতার পক্ষে সাফাই তুলে ধরেন তিনি। এই সময়ে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বাহিনী সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলেও, নেতানিয়াহু দাবি করেন, জাতিগত নিধনের সঙ্গে জড়িত নয় তাঁর দেশ।
গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধনের বিষয়টি উঠে এসেছে জাতিসংঘের গঠন করা একটি স্বাধীন কমিশনের তদন্তে। একে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘে নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসই উল্টো বেসামরিক মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুক্তি দেখিয়ে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা ন্যায্যতা পেতে পারে না।
ভাষণে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন নেতানিয়াহু। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার তুলনা করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘৭ অক্টোবরের পর জেরুজালেমের এক মাইল দূরে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি রাষ্ট্র দেওয়া ১১ সেপ্টেম্বরের পর নিউইয়র্কের এক মাইল দূরে আল–কায়েদাকে একটি রাষ্ট্র দেওয়ার মতো।’
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ যে ১০ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তারও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের মধ্যে ১৫৭টিই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি ইহুদিদের ওপর হামলা বাড়িয়ে তুলবে দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনারা সঠিক কাজটি করেননি। আপনারা যা করেছেন, তা ভুল কাজ। মারাত্মক ভুল কাজ।’
অধিবেশনে গাজায় ইসরায়েলের ‘যুদ্ধ’ এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের আগ্রাসনের জন্য সাধারণ পরিষদে যেসব দেশ নিন্দা জানিয়েছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে ইসরায়েল আপনাদের হয়েই লড়াই করছে। তাই পর্দার আড়ালের একটি গোপন কথা আপনাদের বলতে চাই। তা হলো, অনেক নেতাই প্রকাশ্যে আমাদের নিন্দা করেন আর আড়ালে ধন্যবাদ জানান।’
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের চতুর্থ দিন ছিল শুক্রবার। এদিন ভাষণের জন্য নেতানিয়াহুর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। প্রতিনিধিরা যখন অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত অনেকে হাততালি দেন। এ সময় শিস বাজাতেও শোনা যায়।
খবরওয়ালা/এমএজেড