খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় জুবাইদ ইসলাম নামের এক যুবক নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদকে (৭০) নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে সাবেক এই মন্ত্রীকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়া গোবিন্দপুর বাজার সংলগ্ন আন্ডারপাস সেতুর নিচে আন্দোলন চলছিল। ওই সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় জুবাইদ ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীকালে মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. নুরুজ্জামান আহমেদকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন ও জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার প্রেক্ষিতে তাকে এই নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মো. নুরুজ্জামান আহমেদ দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া পোস্ট অফিসের গলিতে তার ছোট ভাই ওয়াহেদুজ্জামানের বাসা থেকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন।
প্রাথমিক গ্রেফতারের পর তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং নতুন এই হত্যা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর ফলে আইনি প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হলো।
সাবেক এই মন্ত্রী লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবন এবং এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য নিচে সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নাম | মো. নুরুজ্জামান আহমেদ |
| বর্তমান বয়স | ৭০ বছর |
| নির্বাচনী এলাকা | লালমনিরহাট-২ |
| সর্বশেষ পদমর্যাদা | সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার |
| প্রাথমিক গ্রেফতারের তারিখ | ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ |
| গ্রেফতারের স্থান | জুম্মাপাড়া, রংপুর |
| বর্তমান মামলার স্থান | যাত্রাবাড়ী থানা, ঢাকা |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ২০ জুলাই ২০২৪, সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট |
| নিহতের নাম | জুবাইদ ইসলাম |
আদালতের এই আদেশের ফলে জুবাইদ ইসলাম হত্যা মামলায় মো. নুরুজ্জামান আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পাবে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই গ্রেফতারি আদেশ প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এর সাথে আরও কারা জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মো. নুরুজ্জামান আহমেদসহ সাবেক সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য না করা পর্যন্ত তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতেই থাকবেন।