এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলা সাহিত্যে ছন্দচর্চার ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় নাম প্রবোধচন্দ্র সেন। তিনি শুধু একজন প্রখ্যাত ছান্দসিক নন, ছিলেন রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনন্য গবেষকও। তাঁর গবেষণাধর্মী রচনার কারণে বাংলা ছন্দবিদ্যা একটি সুসংগঠিত রূপ লাভ করে।
১৮৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল কুমিল্লার মনিয়ন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
তাঁর কর্মজীবন মূলত অধ্যাপনা ও গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র রথীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণে তিনি বিশ্বভারতীতে অধ্যাপনা করেন। বাংলা ছন্দের ব্যাকরণ নির্মাণ, ছন্দের ইতিহাস রচনা এবং রবীন্দ্রনাথসহ অন্যান্য কবির রচনায় ছন্দ বিশ্লেষণের জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত হন।
প্রবোধচন্দ্র সেন রবীন্দ্রনাথের ‘ছন্দ’ গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। ছন্দ নিয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ছন্দ-পরিক্রমা, ছন্দ-জিজ্ঞাসা, বাংলা ছন্দে রবীন্দ্রনাথের দান, বাংলা ছন্দ-চিন্তার ক্রমবিকাশ, নতুন ছন্দ-পরিক্রমা প্রভৃতি। এছাড়াও তাঁর ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো— ধর্মজয়ী অশোক, রামায়ণ ও ভারত সংস্কৃতি, ভারত-পথিক রবীন্দ্রনাথ, ভারতাত্মা কবি কালিদাস, ভারতবর্ষের জাতীয় সঙ্গীত।
ব্যক্তিজীবনে প্রবোধচন্দ্র সেন ছিলেন উদার, অসাম্প্রদায়িক ও নীতিনিষ্ঠ মানুষ। তাঁর জীবনযাপনের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার ছাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে রচনাকর্মে।
১৯৮৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় তাঁর অবদান বাংলা জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা