খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে, নাকি আগের মতো নির্দলীয় বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফিরবে—এই প্রশ্নটি এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ভাগ্য এখন নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বর্তমান পরিস্থিতির আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধানটি রহিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে যেকোনো অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্সের স্থায়ী রূপ পেতে হলে নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে তা অনুমোদিত বা ‘রেটিফাই’ হতে হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংস্কার এবং নির্বাচনের পদ্ধতি কেমন হবে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন এই নতুন সংসদের হাতে। কমিশনার মাছউদ স্পষ্ট করে বলেন:
“সংসদ বসার পর যদি এই বিল বা অর্ডিন্যান্সটি অনুমোদন পায়, তবে নির্দলীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। আর যদি সংসদ মনে করে আগের দলীয় প্রতীকের ব্যবস্থায় ফিরে যাবে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। আমরা মূলত সংসদীয় সিদ্ধান্তের দিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছি।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়েও ইসি কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি মেনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী সদস্য মনোনীত করবে। ইসি জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজগুলো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা / স্থিতি | সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ |
| সিটি নির্বাচন (মেয়র পদ) | দলীয় প্রতীক থাকবে কি না তা অনির্ধারিত | জাতীয় সংসদ |
| বর্তমান আইনি কাঠামো | অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশাধীন | নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ |
| সংরক্ষিত নারী আসন | নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলমান | নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দল |
| সময়সীমা (নারী আসন) | শপথের ৯০ দিনের মধ্যে | সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা |
| সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা | দুই-তৃতীয়াংশ (বিএনপি নেতৃত্বাধীন) | বর্তমান সরকার |
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রবর্তন করার পর থেকে মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছিল। সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় ব্যবস্থা থাকলে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ মনে করে দলীয় প্রতীক থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হয়।
এখন দেখার বিষয় হলো, আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে সরকার এই অধ্যাদেশটি কীভাবে উপস্থাপন করে। যদি সংসদ এই সংস্কার প্রস্তাবটি পাস করে, তবে আগামীর সিটি নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট দলের মার্কা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন যেভাবেই প্রণীত হোক না কেন, তারা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।