খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে কার্তিক ১৪৩২ | ৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ রয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এক বছরেরও বেশি সময় পর দেশটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ১০টি শর্ত দিয়ে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এসব শর্তের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও পুরোনো সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরোনো সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। আবেদনের শর্তগুলো ওই সিন্ডিকেটকে আইনি বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় গন্তব্য। ভালো বেতন কাঠামো, আরামদায়ক আবহাওয়া ও উন্নত জীবনমানের কারণে দেশটিতে কর্মসংস্থানের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে।
বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। সর্বশেষ বছরখানেক আগে কলিং ভিসায় প্রায় পৌনে ৫ লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। একাধিক বৈঠক সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত বাজারটি পুনরায় চালু করতে পারেনি।
শ্রমবাজার চালু হওয়ার পর যেন তা সিন্ডিকেটের দখলে না যায় এবং সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত থাকে—এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্প্রতি মালয়েশিয়া এ বিষয়ে নজর দিয়েছে। তবে দেশটি শ্রমবাজার সবার জন্য উন্মুক্ত না করে বরং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য ১০টি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম ৫ বছরের সন্তোষজনক কাজের অভিজ্ঞতা, অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রমাণ, তিনটি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা এবং ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস থাকার শর্ত।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, মালয়েশিয়ার এসব শর্ত পূরণ করা বেশিরভাগ এজেন্সির পক্ষেই সম্ভব নয়। কারণ, পূর্বে সিন্ডিকেটভুক্ত এজেন্সিগুলোই ৩ হাজারের বেশি কর্মী পাঠাতে পেরেছিল। অনেক অভিজ্ঞ এজেন্সিও এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হতে পারে। তাছাড়া অফিসের আয়তন নির্ধারণের বিষয়টি মালয়েশিয়ার নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। তারা মনে করছেন, এসব শর্ত পুরোনো সিন্ডিকেটের প্রভাবেই তৈরি করা হয়েছে, যা রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার নতুন ১০টি শর্তের বেশিরভাগই বাস্তবসম্মত নয়। বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সি করতে ১০ হাজার স্কয়ার ফুটের অফিসের প্রয়োজন হয় না; মাত্র ৬০০ বর্গফুটের অফিসেই অনুমোদন মেলে। মালয়েশিয়ায় কর্মী গ্রহণকারী এজেন্সিগুলোরও এত বড় অফিস নেই। বিশ্বের অন্য কোথাও এমন চাহিদা নেই। এতে কর্মীদের খরচ বাড়বে এবং আগের সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হবে। এবার তারা অবৈধভাবে নয়, বরং বৈধতার আড়ালে কাজ করবে।
এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল মালয়েশিয়া। তিন বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে আবার শ্রমবাজার চালু হয়। ২০২২ সালের আগস্টে অনুমোদিত ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানো শুরু করে। তবে সর্বশেষ কর্মী গেছে গত বছরের ৩১ মে। এরপর থেকে দেশটির শ্রমবাজার আবার বন্ধ রয়েছে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
খবরওয়ালা/টিএসএন