খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন মোবাইল সিম কার্ড কেনার ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের নীতিগত লক্ষ্য হলো টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করা, পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দেশের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কর, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে মোট করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করা হয়। এ কারণে খাতটির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।
তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সিম কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সরাসরি সুবিধা সাধারণ গ্রাহকেরা পাবেন না। বরং এই সুবিধা মূলত মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তাদের মতে, মোবাইল কলরেট বা ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ কমার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা আপাতত নেই। ফলে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ছাড়ের সুফল শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি হলেও সচল ও বৈধ মোবাইল সিমের সংখ্যা প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ কোটির মধ্যে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দেশে মোবাইল টেলিযোগাযোগ বাজার ইতিমধ্যেই একটি পরিপক্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় নতুন করে সিম কর প্রত্যাহার কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড বা বাসাবাড়িভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার প্রবেশাধিকার এখনো মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ মানুষের মধ্যে সীমিত। তুলনামূলকভাবে এই খাতটিকে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাজেটে এই খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কর ছাড় বা প্রণোদনা রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।
নিচে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত পরিবর্তন | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|---|---|
| নতুন সিম কর | ৩০০ টাকা | সম্পূর্ণ প্রত্যাহার | রাজস্ব হ্রাস প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা |
| টেলিকম খাতের করহার | প্রায় ৫০ শতাংশ | ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা | বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভাবনা |
| ব্রডব্যান্ড খাত | সীমিত প্রবেশাধিকার (৮–৯%) | উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা নেই | সম্প্রসারণ ধীরগতি থাকতে পারে |
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতিগত সংস্কারের লক্ষ্য প্রশংসনীয় হলেও এর সুফল সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে অতিরিক্ত কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং ছোট অপারেটরদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে বাজারে বড় পরিবর্তন আসবে না।
সব মিলিয়ে সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব টেলিযোগাযোগ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হলেও এর বাস্তব প্রভাব নিয়ে ভিন্নমত ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।