সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: 6শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২০ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সবজি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম হত্যা মামলায় ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম. আলী আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিক সরকার জানান, মামলায় মোট আসামি ছিল সাতজন। এর মধ্যে একজন—সাইফুল ইসলাম হাজী ছয়ফুল মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাকি ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার পারধুন্দিয়া গ্রামের খাজা মিয়া ও তার ভাই বাবু, হরিনাথপুর বিষপুকুর গ্রামের এনামুল, দরগাপাড়া এলাকার মোজাহিদ, মাদারদহ পূর্বপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম এবং রামনগর (হাটবাড়ি) গ্রামের মিলন সরকার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত নাজমুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বাসিন্দা ও একজন সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নওগাঁর চকগৌরী বাজার থেকে সবজি কিনে ঢাকার বাইপাইল আড়তে বিক্রি করতেন। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট সবজি কিনে ট্রাকে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
পরদিন ১১ আগস্ট রাতে নাজমুল তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান কিছু সবজি বিক্রি হয়েছে, বাকি বিক্রি করে বাড়ি ফিরবেন। এরপর রাত ১২টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে জানায়, নাজমুলকে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে একটি কালো মাইক্রোবাসে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।
তবে ওই রাতেই ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রূপসী বাংলা হোটেল সংলগ্ন বটগাছের নিচ থেকে নাজমুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘদিন বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছর পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো। তবে আসামিরা এখনো পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি