নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
বাসাবাড়ি, দোকানপাট এমনকি যানবাহনসহ যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার এবং ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৫) সারাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এই সময়ে ৩৫টি বিস্ফোরণের ঘটনা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মৃত্যু এবং দগ্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার, গ্যাস লিকের যথাযথ পরীক্ষা না করা, দুর্বল সংযোগ এবং নিম্নমানের রেগুলেটর ও পাইপ।
একসময় সিলিন্ডার বিক্রি সীমাবদ্ধ ছিল অনুমোদিত পরিবেশক ও লাইসেন্সধারী দোকানে। বর্তমানে তা মুদির দোকান, গ্রাম-মফস্বল কিংবা শহরের অলিতেগলিতে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের নেই বিস্ফোরক দ্রব্যের লাইসেন্স, নেই প্রশিক্ষণ কিংবা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনিক তদারকির অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
গত ২৫ এপ্রিলগাজীপুরের জয়দেবপুর: রান্নাঘরে গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ, যাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু ঘটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
২৩ মে, পুরান ঢাকার আফতাবনগর: উৎসব চলাকালে দুটি আলাদা ঘটনায় ১০ জন দগ্ধ হন। সাভারের আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একটি পরিবারের সাতজন দগ্ধ হন, যাদের অনেকেই প্রাণ হারান। এমন দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য অশনিসঙ্কেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ি বা দোকান নয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অটোরিকশা ও যানবাহনেও গ্যাস সিলিন্ডার অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সিলিন্ডার কতদিন আগে পরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলোর মান কতটা নির্ভরযোগ্য—তার কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। নিয়মিত তদারকি না থাকায় সিলিন্ডারগুলোর অনেকটাই এখন সময়বোমায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনই যদি কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই প্রবণতা আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার চিহ্নিত করে অপসারণ, লাইসেন্সবিহীন বিক্রেতা ও পরিবেশকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, গ্যাস সংযোগে মানসম্মত রেগুলেটর, পাইপ ও সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পরামর্শ দিয়েছেন।
এছাড়া, জনসচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা, বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন ও রুটিন চেকআপ চালু করতেও জোর দাবি জানিয়েছেন দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।
সরকারি ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই। অন্যথায়, প্রতিটি সিলিন্ডার হয়ে উঠবে একটি ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা ভয়াবহ বিপদ।
খবরওয়ালা/এমএজেড