খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
একসময় তাঁর কণ্ঠ ছিল এদেশের তরুণদের প্রেমভরা দিনের সঙ্গী। “তুমি বরুণা হলে হব আমি সুনীল”—এই গানটির মাধ্যমে মাহাদী ফয়সাল চোখের পলকে ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁকে বেশি দেখা যায়নি স্পটলাইটে। অনেকেই ভাবেন, তিনি নাকি বিরতিতে। কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম—মাহাদী কখনোই থেমে থাকেননি, শুধু কাজ করেছেন বেছে–বেছে, নিজের মতো করে। এখন, নতুন উদ্যমে আবার ফিরছেন তিনি।
১৯৯৫ সালের “নতুন কুঁড়ি”—অনেক শিল্পীরই যাত্রাশুরু যেখানে, সেখানে ভক্তিমূলক গানে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় হয়েছিলেন কিশোর মাহাদী। মাত্র এক বছর পর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে লোকগীতে প্রথম হয়ে প্রমাণ করেছিলেন তিনি আর পাঁচজনের মতো নন। নিজের শহরে গান শেখা, ছোট ছোট মঞ্চে ওঠা—সবই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এক বড় যাত্রার দিকে।
২০০৫ সাল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো বছর। বন্ধু–শিক্ষকদের অনুরোধে ‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এ নাম লেখান। ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাউন্ড পেরোতে পেরোতে পৌঁছে যান সেরা ১১–তে। যদিও সেরা দশে এসে থেমে যায় যাত্রা, কিন্তু ততক্ষণে তিনি সুপরিচিত। শহরে তাঁর পোস্টার ঝুলত, অচেনা মানুষ অটোগ্রাফ চাইত—সেসব দিন এখনও তাঁর কাছে জীবনের সেরা স্মৃতি।
রিয়েলিটি শোর পর শুরু হলো কনসার্টজীবন। ২০০৭ সালে গানচিল থেকে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘বন্দনা’ তাঁকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারপর আসে কিংবদন্তি প্রিন্স মাহমুদ ও গীতিকার আসিফ ইকবালের মিলিত সৃষ্টিকর্ম—সুনীল–বরুণা—যা তাঁকে এক নিমিষে তারকা বানিয়ে দেয়। সিটিসেল–চ্যানেল আই অ্যাওয়ার্ডও জয় করেন তিনি।
২০০৯ সালে এলিটার সঙ্গে অ্যালবাম অন্তহীন প্রকাশ পায়। “হৃদয়ের ঝড়ে”, “নিঝুম রাত”, “ভোরের শিশির”—সব গান তাঁকে ব্যস্ততম কনসার্ট শিল্পীতে পরিণত করে।
অডিও ইন্ডাস্ট্রি হঠাৎ বদলে যায়। অ্যালবাম কমে আসে। কিন্তু মাহাদী পিছিয়ে যাননি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একের পর এক গান দিয়ে গেছেন। করোনাকালে তিনশর বেশি শিল্পীকে নিয়ে তৈরি করেছেন বড় মোটিভেশনাল গান, আবার নিজেই ছিলেন নির্বাহী প্রযোজক। “যখন যুদ্ধে আছি”, “কেউ বোঝে তো কেউ বোঝে না”, “কত কাছে তোমার”—এসব গান প্রমাণ করে তিনি নিভে যাননি কখনোই।
এখন তিনি শুধু গায়ক নন, একজন করপোরেট পেশাজীবীও। ২০১০ সালে বিয়ে করেন আরিফা রহমানকে। ২০১৫ সালে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যা যুয়েনা ফাতিহা—যার জন্যই তিনি নাকি জীবনের অর্থ আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।
চলতি বছরের শেষে তাঁর নতুন গান আসছে। রেকর্ডিং বাকি। পাশাপাশি কাজ করছেন নজরুলসংগীতের কিছু ব্যতিক্রমী প্রকল্পে। অভিজ্ঞতার আলো আর নতুন প্রজন্মের চাহিদা—দুইয়ের মিশেলে আবার নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসছেন তিনি।