খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চিয়া সিড বা চিয়া বীজ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজে সমৃদ্ধ। বর্তমানে প্রতিদিনের খাবার ও খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় এখন বেশ জনপ্রিয় এই ‘চিয়া সিড’।
বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেডের ডায়েটেটিকস ডিপার্টমেন্টের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শিরিনা স্মৃতি বলেন, ‘চিয়া সিড একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার৷ এতে আছে দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি আয়রন, কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম, মুরগির ডিম থেকে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন, এতে আছে স্যামন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩। তাই খাদ্য তালিকায় সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন চিয়া সিড রাখতে পারেন।’
চলুন জেনে নেওয়া যাক চিয়া সিডের গুণাগুণ ও কীভাবে এটি খাওয়া যায় সেই সম্পর্কে।
চিয়া সিডের গুণাগুণ
ওজন কমাতে সাহায্য: চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে। এর ফলে ওজন কমানো সহজ হয়।
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে: এর উচ্চ ফাইবার উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
হাড় ও দাঁত মজবুত করে: চিয়া সিডে দুধের চেয়েও বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: চিয়া সিড রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে।
প্রোটিনের উৎস: যারা নিরামিষভোজী, তাদের জন্য এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস।
চিয়া সিড খাওয়ার কিছু সহজ উপায়
চিয়া সিড পানিতে অথবা অন্য কোনো তরল পদার্থের সাথে মিশিয়ে খেতে হয়।
পানিতে ভিজিয়ে: সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ১-২ চামচ চিয়া সিড এক গ্লাস পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা। এটি জেলি বা পুডিং-এর মতো হয়ে যাবে। সকালে খালি পেটে এই মিশ্রণ খুব উপকারী।
স্মুদি বা জুসে: আপনার পছন্দের স্মুদি বা ফলের জুসের সাথে চিয়া সিড মিশিয়ে খেতে পারেন।
দই বা ওটসের সাথে: সকালের নাস্তায় দই, ওটস বা সিরিয়ালের সাথে চিয়া সিড মিশিয়ে খেতে পারেন।
দুধে ভিজিয়ে: ১-২ চামচ চিয়া সিড এক গ্লাস দুধেও ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন।
খবরওয়ালা/এফএস