খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণের সময় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মানুষ সৌভাগ্যবশত তা দেখার সুযোগ পাননি। এবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (লুনার ইক্লিপস) বাংলাদেশের আকাশে চোখে দেখা যাবে। যদিও সময় সীমিত, তবুও আকাশপ্রেমীরা এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই; আমরা যা দেখি তা সূর্যের আলো। যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মধ্যে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদে পড়ে এবং সূর্যের আলো পৌঁছতে পারে না। এটি চন্দ্রগ্রহণ। বিশেষ করে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রঙ লাল হয়ে যায়। তাই এই দৃশ্যকে প্রায়শই “রক্ত চাঁদ” বা ব্লাড মুন বলা হয়।
সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা যায়, তাই রাতের আকাশে সহজেই উপভোগ করা যায়। চন্দ্রগ্রহণ দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাই দেখা অনেকের জন্য সহজ হয়।
আগামী ৩ মার্চ পৃথিবীর যে অংশে রাত থাকবে, সেখানে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশে এটি প্রত्यक्ष হবে, যদিও সময় সীমিত। পুরো গ্রহণ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চললেও সবচেয়ে নাটকীয় পূর্ণগ্রাস পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।
নিচের টেবিল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের সময়সূচি জানা যাবে:
| দেশ / অঞ্চল | খণ্ডগ্রাস শুরু | পূর্ণগ্রাস শুরু | পূর্ণগ্রাস শেষ | খণ্ডগ্রাস শেষ |
|---|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ | বিকাল ৪:৫৪ | বিকাল ৫:২৮ | সন্ধ্যা ৬:০২ | রাত ৮:২৩ |
| ভারত | বিকাল ৪:৫৮ | বিকাল ৫:৩২ | বিকাল ৬:০৬ | রাত ৭:৫৩ |
| আমেরিকা (পশ্চিম) | ভোর ৪:০৪ | ভোর ৪:৫৮ | ভোর ৫:৫২ | — |
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে চাঁদ কখনও সম্পূর্ণ কালো হয় না; বরং লালাভ রঙ ধারণ করে। এটি ঘটে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে। সূর্যের নীল আলো বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে যায়, আর লাল আলো চাঁদে পৌঁছায়। ফলে গ্রহণকালীন চাঁদকে গাঢ় লাল দেখা যায়।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপ্রেমীরা এই মহাজাগতিক দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করতে পারেন। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি জীবন্ত জ্যোতির্বিদ্যার শিক্ষার সুযোগও তৈরি করে।